মতামত

শিক্ষাব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

লুৎফুন্নিছা খানম
ama ami

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে এসেছে পরিবর্তন। প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্থাপিত হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ৪১০১টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) আওতায় ২৭০টি আইসিটি লার্নিং সেন্টার (আইএলসি)। শিখন-শেখানো কলাকৌশলে এসেছে পরিবর্তন, যুক্ত হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস অডিও-ভিজুয়াল মেথড। আবার এসব ক্লাস মনিটরিংয়ের জন্যও রয়েছে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থাÑ এমএমসি অ্যাপ। শুধু তাই নয়, ভর্তি প্রক্রিয়া ও ফলাফল প্রদানেও তথ্যপ্রযুক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহার চলছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

ডিজিটাল কনটেন্ট : বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষক ডিজিটাল কারিগর। এটুআই, টিকিউআই, সেসিপ কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে শিক্ষকরা নিজেদের তৈরি করা কনটেন্ট দিয়ে নিজেরা ক্লাস নেন। এ ছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ই ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করেন বিভিন্ন সরকারি ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে; যা বর্তমান সরকারের এক অভাবনীয় উদ্যোগ।

মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক : দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষা প্রসারে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক। এটুআই কর্তৃক প্রকাশিত মাল্টিমিডিয়া টকিং বুকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত ব্রেইল পাঠ্যবই শুধু পড়তে পারে না, এখন শুনতেও পারে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাস্কর ভট্টাচার্য কর্তৃক প্রবর্তিত টেস্ট বুকে কণ্ঠ দিয়ে ডেইজি মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক শিক্ষার মাঝে আনন্দের সঞ্চার করেছে; যা দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

ই-বুক : বছরের শুরুতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণকৃত বই ই-বুক আকারে এনসিটিবির ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। ফলে কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো বই হারিয়ে ফেলে কিংবা নষ্ট করে ফেলে; তবে সহজেই ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারে। এ ছাড়াও পাঠসংশ্লিষ্ট ই-বুকও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট থেকে পেতে পারে।

শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব : ‘শেখ রাসেল কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব’ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি জেলায় ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাবসহ সারা দেশে ২ হাজার ৯৭১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের মাদরাসা) কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব তৈরি করা হয়।

কিশোর বাতায়ন : ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের স্বপ্নকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের একুশ শতকের যোগ্য, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ, সৃজনশীল নাগরিক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে কিশোর বাতায়ন। নিরাপদ কৈশোর ও উপযুক্ত বয়সে জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চাকে ত্বরান্বিত করতে বর্তমান সরকারের অতুলনীয় এক উদ্যোগ কিশোর বাতায়ন ওয়েব পোর্টাল।

শিক্ষক বাতায়ন : প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষকদের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে শিক্ষক বাতায়ন। আইসিটিতে দক্ষ শিক্ষকরা তাদের তৈরিকৃত ডিজিটাল কন্টেন্ট, ছবি, গল্প, ভিডিও, অডিও, আপলোড করে থাকেন। বর্তমানে (নভেম্বর, ২০১৮) এ পোর্টালের কন্টেন্ট সংখ্যা ১,৪৩,৫২৩। এ ছাড়াও ৯৪৩টি মডেল কন্টেন্ট রয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ৩,৪১,৪১৬ জন শিক্ষক ‘শিক্ষক বাতায়ন’-এর সদস্য। এই পোর্টালের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন আগামী ২০২১ সাল নাগাদ ৯ লাখ শিক্ষককে এই পোর্টালের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এমএমসিএম (সসপস.মড়া.নফ) সিস্টেম : বাংলাদেশের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের পুরো চিত্র দেখা যায় এমএমসিএম ড্যাশবোর্ডটির মাধ্যমে। দেশের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানে পূর্বে আপলোডকৃত ক্লাসসমূহ দেখতে পারে, অন্যান্য থানা, জেলা, বিভাগ কিংবা দেশের পুরো চিত্র দেখতে পারে, যা নিজ প্রতিষ্ঠানে আইসিটি প্রসারে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদায় আসীন করতে দৃঢ়প্রত্যয়ে ব্যাপক হারে কাজ করে যাচ্ছে এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই), আইসিটি ডিভিশন। সময়ে সময়ে বিভিন্ন ইনোভেটিভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী অবদান রাখছে; যা শিক্ষার অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

লেখক : শিক্ষক

"