উপায় আছে কি ‘উত্তরণের’

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

প্রচলিত ধারণা এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিশ্বাস হচ্ছে, ‘নারীরা ঘরেই বেশি নিরাপদ’। কিন্তু প্রকৃত সত্য এর বিপরীত। আর প্রকৃত সত্যটি হচ্ছে, নারীদের ওপর বেশির ভাগ সহিংসতা সংঘটিত হয় বাড়িতে। ঘরের প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজন নারীই নানাভাবে পরিবারের লোকজনের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘরেই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন দেশের ৬৬ শতাংশ নারী। বেসরকারি দাতা সংস্থা অ্যাকশনএইডের গবেষণা এ তথ্য দিয়েছে। বাংলাদেশের ২০ জেলায় সংঘটিত সহিংসতার তথ্য, পুলিশ রিপোর্ট, বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম, মিডিয়া প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যাকশনএইড।

গবেষণায় বলা হয়, নারীরা ঘরেই বেশি নিরাপদÑ এ প্রচলিত বিশ্বাস এমন একটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যে, জনপরিসরে নারী নিরাপত্তাকে আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এখন পর্যন্ত কোনো আইনই এটা মানতে রাজি নয় যে, বিয়ের পর নারীরা ধর্ষণের শিকার হতে পারে। গবেষণায় আরো বলা হয়, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা সম্পর্কিত মামলাগুলো প্রতি পাঁচটির মধ্যে চারটিই আদালতে উত্থাপিত হতে দুই বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়। তারপর শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া। এরপর ফলাফল।

গবেষণায় বলা হয়েছে, সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ নিজেদের পক্ষে বিচার পান। বাকি ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশর অভিযোগ আদালতে শুনানির পর্যায়ে যায় না বা গেলেও তা বাতিল হয়ে যায়। গবেষণায় পাওয়া তথ্যমতে, অভিযোগ দাখিল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য নথিপত্রে লিপিবদ্ধ থাকে না। এলাকার ক্ষমতাসীনদের বাধা ও হস্তক্ষেপ, সুশাসনের অভাব, ঘরে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম না থাকা এবং মামলার ধীরগতির কারণে ভুক্তভোগীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ নিয়ে যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে রায় বর্তায় বলে তাদের আরো সমস্যায় পড়তে হয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ২০০৯ বাস্তবায়ন বিষয়ক অপর একটি গবেষণায় বলা হয়, কর্ম ও শিক্ষা ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন একটি রায় ঘোষণা করেন। তবে এ নির্দেশনা প্রণয়নের দীর্ঘ ৯ বছর পরও এর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। আমরা মনে করি, বিষয়টির প্রতি সরকারের বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি আজ সময়ের দাবি হিসেবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কেননা আমরা বিশ্বাস করি, একটি মহান জাতি গঠনে মায়ের ভূমিকাই মুখ্য। যে নারীকে সম্মান দিতে জানে না তার ধ্বংস অবধারিত।

"