দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়াই লক্ষ্য

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে বাক্যটি আবার উচ্চারিত হলো সরকারের উচ্চপর্যায়ের আসন থেকে। বলছেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। নির্বাচনপূর্ব সময় থেকে আমরা বিশেষভাবে বাক্যটি উচ্চারিত হতে দেখেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতির প্রশ্নে এবারের সরকার জিরো টলারেন্সে থাকবে। সম্ভবত সে কারণেই এবারের মন্ত্রিসভায় আমরা অনেক নতুন এবং তরুণ মুখের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এই নতুন মুখগুলোই এখন জাতির একমাত্র ভরসা। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী মনোনীত নতুনের সমাহারে নির্মিত এই মন্ত্রিসভাই পারবে দেশ থেকে দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করতে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, দারিদ্র্যবিমোচন বা অবকাঠামোর উন্নয়নের চেয়েও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। এ লক্ষ্য অর্জনে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। মন্ত্রীর এ কথায় আমরা আশান্বিত হতেই পারি। দেখতে চাই, মন্ত্রীর এ কথা প্রতিধ্বনিত হয়ে, বিকশিত হয়ে, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাহলেই সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর উচ্চারিত শব্দাবলি প্রতিষ্ঠিত হবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায়। দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। বইবে সুশাসনের সুবাতাস।

দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষই বিশ্বাস করেন, দুর্নীতিই হচ্ছে দেশের অর্থনীতির শরীরে একটি দুরারোগ্য ক্যানসার। এ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ খুব একটা সহজ কর্ম নয়। বিপরীতে বলা যায়, জটিল এবং কঠিন। তবে অসাধ্য নয়। প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের, যা আমরা ইতোমধ্যেই পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন এবং বারবার তা সবাইকে জানিয়েছেন। দেশের ১৬ কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে সঙ্গের কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, ‘চাই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ’।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যখন হয়েছে, তখন তা বাস্তবায়িত হবে। প্রয়োজন শুধু সততার। এই সততার নিদর্শন খুঁজতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় যে নতুন এবং তরুণের সমন্বয় ঘটিয়েছেনÑ নিশ্চয়ই নতুন এই মন্ত্রিসভা, নেতার এই সাহসী পদক্ষেপের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে কার্পণ্য করবেন না। আমরা জানি, কেবল বাংলাদেশের মানুষরাই নয়, গোটা বিশ্বই আজ তাকিয়ে আছে এই দেশটির দিকে। তারাও বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতিকে অপসারণ করা গেলে অতিশিগগিরই দেশটি উন্নত বিশ্বের কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হবে। কেবল অর্থনীতির ক্ষেত্রেই নয়, রাজনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও দেশটি হবে সবার জন্য অনুকরণীয়। দীর্ঘদিন আমরা শুধু অনুকরণ এবং অনুসরণ করেছি। এখন আর অনুকরণ ও অনুসরণ নয়। বিশ্বই অনুসরণ করবে বাংলাদেশকেÑ এটাই প্রত্যাশা।

"