বড় অর্থনীতিতে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে চাপা অভিমান আছে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতাদের মধ্যে। মন্ত্রিসভায় জোটের কেউ কোনো স্থান পেলেন না। তবে বাদ পড়া মন্ত্রীরা বলেছেন, বাদ পড়ার কারণ তারা জানেন না। বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের ধারণা, বাদ পড়ার কারণ তারা জানেন নাÑ এ কথা তারা জানেন। সত্য উচ্চারণে বিপত্তি আছে। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে

আসতে পারে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্সের (সিইবিআর) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়, ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় অর্থনীতির ২৫ দেশের একটিতে পরিণত হবে। বিশ্বে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতি দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ৪১তম। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০৩৩ সালে অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পেছনে থাকবে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশসমূহ। আগামী ১৫ বছর দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিশ্বের মোট ১৯৩ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

এ প্রশ্নে দেশের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের মতে, বড় অর্থনীতির দেশ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। আগামী ১৫ বছরে ৭ শতাংশ বা এর বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনও সম্ভব। কিন্তু এগুলো শুধু সংখ্যাগত তথ্য-উপাত্য হিসেবেই থেকে যাবে যদি না সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করা যায়। এ জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং কাঠামোগত সংস্কার দরকার। প্রতিষ্ঠানটির মতে, আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আড়াই গুণেরও বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই তার মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজিয়েছেন। তারুণ্য এবং নতুন মুখের যোগ্য সন্তানদের প্রাধান্য দিয়েছেন। এই সন্তানরা তাদের সততা এবং যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটিয়ে আগামীর বাংলাদেশকে বড় অর্থনীতির দেশে পরিণত করে প্রমাণ করবেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল। নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, দুর্নীতির প্রশ্নে তার সরকার এবার জিরো টলারেন্সে থাকবে। তার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রয়োজন সৎ ও দক্ষ কারিগরের। আমরা মনে করি, আগামীতে আমরা সেই সৎ ও দক্ষ কারিগরদের খুঁজে পাব এই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে।

বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় অবস্থানে চীন। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে জাপান, জার্মানি ও ভারত। ২০৩৩ সালে এখানে কিছু পরিবর্তন আসবে। চীনের অবস্থান হবে এক-এ আর যুক্তরাষ্ট্র নেমে যাবে একধাপ নিচে। এই ভাঙা-গড়ার খেলায় আমাদের অবস্থান হবে কেবল এগিয়ে যাওয়ার, যদি দেশকে আমরা দুর্নীতিমুক্ত করতে পারি। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তার নতুন সরকারের শুরুতে তার নিদর্শন রাখতে সমর্থ হয়েছেন। তিনি শক্তহাতে দেশ পরিচালনায় এগিয়ে যাবেনÑ এটাই ষোলো কোটি মানুষের প্রত্যাশা।

"