বন্দর নিয়ে স্বস্তি

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

অনেক দুঃসংবাদের মাঝে, মাঝে-মধ্যে দু-একটি সংবাদ আমাদের মনে আলো ছড়ায়। আমরা উদ্ভাসিত হই, অনেক নিরানন্দের মাঝে আনন্দের ভেলায় চড়ে কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যাই। এ হারিয়ে যাওয়ার মূল্য কোনো কিছু দিয়ে কেনা যায় না। একটি কথা মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি, সুখ সংবাদ কখনোই অলৌকিকতাকে আশ্রয় করে আমাদের দরজায় এসে কড়া নাড়ে না। একে তৈরি করতে হয়, নির্মাণ করতে হয়। আমরা নির্মাণে বিশ্বাসী, অলৌকিকতায় নয়।

অনেক-অনেক দিন পর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য চলাচলে ব্যবসায়ীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কনটেনারবাহী জাহাজ বন্দর জলসীমায় আসার পর পণ্য হাতে পেতে আগের মতো আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না ব্যবসায়ীদের। গত অর্থবছরে প্রতিটি জাহাজ জেটিতে ভেড়াতে অপেক্ষায় থাকতে হতো সাড়ে পাঁচ দিন। এখন তা নেমে এসেছে এক বা দুই দিনে। নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন ও পরিচালন কার্যক্রমে ইতিবাচক তদারকির কারণেই বন্দর পরিস্থিতির এই পরিবর্তন। যাকে স্বাগত এবং প্রশংসা না করলে কৃপণতা করা হবে। আমরা কৃপণ হতে চাই না। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ। তবে এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, এ পরিবর্তন এমনিতেই আসেনি। আসেনি কোনো অলৌকিকতাকে আশ্রয় করে। সততার সঙ্গে আমাদের কার্যক্রম এই সৌভাগ্য আমাদের হাতে তুলে দিছে। এক কথায় বলা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষের সৎ কর্মযজ্ঞের ফসল এই সুসংবাদ।

বন্দরে কনটেইনার জাহাজের জট শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। তখন জেটিতে ভেড়ানোর জন্য অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা নয়টিতে উন্নীত হয়েছিল। সে সময় বহির্নোঙরে ১০টি জাহাজকে অপেক্ষায় থাকতে হতো। ২০১৭ সালে তা আরো বেড়ে যায়। এই জট অব্যাহত ছিল নভেম্বর পর্যন্ত। এখন আর সে জট নেই। নেই ব্যবসায়ীদের অস্বস্তি। নেই পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। ব্যবসায়ীদের মতে, জাহাজজট কমে যাওয়ায় কনটেইনারবাহী জাহাজের পরিচালন ব্যয়ও কমে এসেছে। পারস্থিতি অব্যাহত থাকলে পণ্য পরিবহনের খরচও কমবে। কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তারা বলেছেন, জাহাজ পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও যুক্ত।

আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনা জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করে। জাতির সামনে ভবিষ্যতের ইতিবাচক স্বপ্ন থাকলে সে জাতিকে দাবিয়ে রাখার ক্ষমতা কারো থাকে না। আমরা এ ধরনের কাজের উদাহরণ তৈরি করতে পারলে একদিন আমরা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের দরোজায় গিয়ে বলতে পারব, ‘আমরাও পারি’। পরিশেষে আবার ধন্যবাদ বন্দর কর্তৃপক্ষকে। সঙ্গে একটি অনুরোধ, এখান থেকে আর যেন কখনো আমরা পিছিয়ে না পড়ি। এটাই জাতির প্রত্যাশা।

 

"