উধাও হচ্ছে অক্সিজেন

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাতাস না থাকলে আমরা থাকি না। আমরা অর্থাৎ প্রাণিকুলের কেউ থাকে না। একই সঙ্গে এ কথাও সত্য, অক্সিজেন না থাকলে বাতাস অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। যদি কথাগুলো সত্য হয়, তাহলে প্রাণী ও জীবজগতের জন্য এক অশনিসংকেত ধেয়ে আসছে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর দিকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবী থেকে দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে অক্সিজেন। উধাও হয়ে যাচ্ছে মহাকাশে। নাসার তথ্য মতে, তারা যেভাবে আশা করেছিলেন, পৃথিবীর বায়ুম-ল প্রায় সেভাবেই উত্তরোত্তর পাতলা হয়ে এলেও বাতাসের অক্সিজেন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুতহারে চলে যাচ্ছে পৃথিবী ছেড়ে। সেই হারে কমছে না কার্বন-ডাই অক্সাইড। অক্সিজেনের মতো অত দ্রুতহারে কমছে না বাতাসের নাইট্রোজেন ও মিথেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েক কোটি বছর আগে এমন অবস্থায় পড়েছিল প্রতিবেশী লাল গ্রহ মঙ্গলের। উদ্বেগের ব্যারোমিটারে তাই রেড অ্যালার্টের ঘণ্টাধ্বনী শোনা যাচ্ছে। দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বিজ্ঞান গবেষণাগারে। তাদের লক্ষ্য এখন কারণ উদ্ঘাটনে। সেই লক্ষ্যেই নরওয়ের উত্তর উপকূল থেকে পাঠানো হয়েছে ‘ভিশনস-২’ সাউন্ডিং রকেট। কারণ নির্ণয়ের তথ্য বের করে আনাটাই এই মহাকাশযানের কাজ। গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে, ১৯০৪ সালে এমন আশঙ্কার কথা বলেছিলেন জেমস জিনস। তাত্ত্বিকভাবে তিনি জানিয়েছিলেন, পৃথিবীর বায়ুম-ল একদিন মহাকাশে হারিয়ে যাবে। সেদিন পৃথিবীতে বায়ুম-লের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। ফলে, বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান উপকরণ বঞ্চিত হবে বর্তমান পৃথিবী। ‘ভিশনস-২’ মিশন প্রধান ডগ রাউল্যান্ড বলেছেন, প্রতিদিন পৃথিবীর কয়েক শ টন বায়ুম-ল পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছে মহাকাশে। তার ফলে, খুব দ্রুত হারে তার ওজন হারিয়ে ফেলছে। হাল্কা হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী।

পৃথিবীর এই করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে রয়েছে মানুষের অবিবেচনাপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পরিবেশ দূষণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে সভ্যতার দাবিদার এই মানব সম্প্রদায়। আমরা মনে করি, পৃথিবীকে তিলে তিলে হত্যা করার দায় মানুষকেই নিতে হবে। আবার এই পৃথিবীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে এ মানুষকেই নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিবেশ রক্ষার কাজে শতভাগ মনোনিবেশ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, পরিবেশ দূষিত হলে পৃথিবী দূষিত হবে। পৃথিবী দূষিত হলে বায়ুম-ল থেকে অক্সিজেন হারানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, যা হবে সারা বিশ্বের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে একটি অশনিসংকেত।

"