বালুমহালের রাজত্ব

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

এতকাল মানুষের কান্নার কথা শুনেছি। পশু, পাখি, বৃক্ষলতারাও কাঁদে। আমি, তুমি, সেও কাঁদে। অর্থাৎ জীবন যেখানে আছে কান্নাও সেখানে সাথী। তবে নদীকে কাঁদতে দেখার খবর এখনো শোনা না গেলেও কবি, সাহিত্যিকরা কখনো কখনো এই কান্না দেখতে পেয়েছেন। দেখতে পেয়েছেন বলেই নন্দিত কথাশিল্পী সৈয়দ ওলিউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসে নদীর মর্মবেদনার কথা সত্য হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের প্রাণ শীতলক্ষ্যার ক্ষেত্রে। নিঃশব্দ শব্দের মতো মৃত্যু পথযাত্রী শীতলক্ষ্যার এ নীরব কান্নার ধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন না কেউ। নির্বিচারে চলছে দখল। নদীখাদকরা মানছেন না কোনো আইনকানুন। নদীটিকে রক্তাক্ত করে বসানো হয়েছে ৩০টি বালুমহাল।

শীতলক্ষ্যার রূপগঞ্জ অংশের তারাব থেকে পুটিনা পর্যন্ত দুই তীরঘেঁষে গড়ে উঠেছে এসব বালুমহাল। যার পুরোটাই জবরদখলের অংশ। ‘বালুর গদি’ বসিয়ে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের ব্যানারে প্রভাবশালীরা নদীর তীর দখল করে রমরমা এ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চলছে এসব বালুমহালে। অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্টে মামলা রয়েছে। দখলদারদের কোনো ছাড়পত্র থাকার প্রয়োজন পড়ে না। ছাড়পত্রের ধারও তারা ধারেন না। তবে তারা বলেছেন, বিভিন্ন দফতরে মাসোহারা দিয়েই এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে কোনো সংশ্লিষ্ট দফতর এর সত্যতা স্বীকার করেননি।

নদীটির বাস্তবচিত্র হচ্ছেÑ সুলতানা কামাল সেতুর শীতলক্ষ্যার পারেই বালুর গদি রয়েছে ২০টি। একদিকে যেমন সেতুটির নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে, পাশাপাশি ঘনীভূত হচ্ছে শীতলক্ষ্যার মৃত্যু। তবে নদীখাদকদের জন্য এটি এখন টাকার স্বর্গ। এসব বালুমহালে মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকার বালু বেচাকেনা হয়। এখান থেকে অলিখিত কোনো এক নিয়মে টাকার ভাগ বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদফতর, প্রশাসনের পকেটে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছেন, নদী দখল করে যারা অবৈধ বালু ও পাথরের ব্যবসা করছেন, তাদের উচ্ছেদ করা হবে। আশার কথা অনেকেই শুনিয়েছেন। জেলা প্রশাসকও একই বাণী শুনিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছেÑ এত দিন তারা কোথায় ছিলেন! কে তাদের ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল?

এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে স্থানীয়দের অভিযোগের দিকেই তাকাতে হয়। অভিযোগই এখানে সত্য বলে বিবেচিত হতে পারে। আমরা মনে করি, নদীখাদকদের উচ্ছেদ করার আগে সর্বাগ্রে সৎ মানুষের প্রয়োজন। সরকারকে সেখানেই মনোনিবেশ করা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। অন্যথায় নদী হত্যার দায়ে এক দিন তাদেরকে জনতার আদালতের সামনে দাঁড়াতে হতে পারে।

"