অনৈতিক আচরণ কাম্য নয়

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সময় ও পরিবেশের যেকোনো অবস্থানে অনৈতিক আচরণ কখনোই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে কোনো স্কুল অথবা কলেজশিক্ষকের ক্ষেত্রে। আমরা সমর্থন না করলেও, স্কুল-কলেজে এ রকম অনৈতিক আচরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। নীতিনৈতিকতার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনৈতিকতার পৃষ্ঠপোষকরা তা ঘটিয়েই চলেছেন। সমাজে এ নিয়ে কিছুদিন হইচই হবে। তারপর নিঃশব্দ শব্দের মতো তা হারিয়ে যাবে। সমাজ ভূমিতে আর কোনো ক্ষতচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না। সম্ভবত বর্তমান সমাজব্যবস্থায় এটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এক শিক্ষকের আচরণে অপমানিত হয়ে ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ঘটনা পরিদর্শনে এসে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে, তা কল্পনায়ও আসে না। এহেন আচরণকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেছেন, জনপ্রিয়তার কারণে এই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অনেক অভিযোগ শুনেছি। এসব অনিয়মের কারণে টাকার বিনিময়ে ভর্তি বন্ধেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। একসময় এখানে ভর্তির জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এসব অনৈতিক আচরণ সংক্রমিত হতে হতে আজ তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এক ছাত্রীর আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। তাৎক্ষণিক আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নিদর্শন পেয়েছি। ইতোমধ্যেই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এমপিও বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ। তবে সমাজের প্রতিটি স্তরে যখন অনৈতিকতার বসবাস, তখন আগামীতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর যে হবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়!

না। কোথাও গ্যারান্টি নেই। তবে কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে অনৈতিকতার লাগামহীন চলাচলকে কিছুটা হলেও কমানো যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আত্মহত্যার ঘটনায় আদালত তার দেওয়া মন্তব্যে বলেছেন, শিক্ষার্থীর সামনে বাবা-মাকে অপমান করা একটি বাজে দৃষ্টান্ত। ঘটনাকে হৃদয়বিদারক বলেও মন্তব্য আদালতের। আমরাও আদালতের মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, এহেন ঘটনা যেন আবার আর না ঘটে। এ জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরেই তাৎক্ষণিক কঠিন এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে অন্তত সব ধরনের অনৈতিকতার গতির সামনে স্পিড ব্রেকারের মতো একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা সম্ভব হবে এবং অনৈতিকতার অপ্রতিরোধ্য গতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। এ দেশের মানুষ কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হবে।

 

"