আবার আগ্রাসনে আর্সেনিক

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আগ্রাসনের যেন শেষ নেই। বিশ্বজুড়ে চলছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আগ্রাসনের প্রলয়নৃত্য। মিডিয়ায় চোখ রাখলেই আগ্রাসন চিত্র ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ার সুযোগ নেই। বিশ্বজুড়ে যেন আগ্রাসনের মহোৎসব চলছে। মানবসৃষ্ট এই মহোৎসবের পাশাপাশি থেমে থেমে প্রকৃতির আগ্রাসনও কোনো অংশে কম যাচ্ছে না। তবে এখানে বলে রাখা বাঞ্ছনীয়, প্রকৃতি মাঝে-মধ্যে যে আগ্রাসনে অবতীর্ণ হচ্ছে, তার পেছনেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে মানুষের হাত রয়েছে। মানুষই যেসব আগ্রাসনের প্রধান উৎস। এ প্রশ্নে দ্বিমত করার কোনো অবকাশ নেই।

সম্প্রতি যশোরের চৌগাছা উপজেলার মাড়–য়া গ্রামে ভয়াবহ আর্সেনিক ছড়িয়ে পড়েছে। আর্সেনিকের আগ্রাসনে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার অতিক্রম করেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে, বর্তমানে এ গ্রামের মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হতে শঙ্কিত হচ্ছেন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস ও এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক সূত্র মতে, অধিকাংশ গ্রামের নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। শত শত মানুষ এখন আর্সেনিকজনিত রোগে আক্রান্ত। এই রোগীরা ভিটেমাটি, জমি-জায়গা বিক্রি করে দেশ ও বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মাড়–য়া গ্রামের চার হাজার জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ নারী-পুরুষ বিভিন্ন মাত্রায় আর্সেনিকে আক্রান্ত।

পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম হলেও এ গ্রামের গড়মাত্রা শূন্য দশমিক ৮৫ মিলিগ্রাম। ২০০১ সালে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক মাডুয়া গ্রামে বিশেষ গবেষণা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি আর্সেনিকযুক্ত পানির উৎস বন্ধ করার পরিকল্পনাও করেন। পরে নিরাপদ পানির জন্য গ্রাবেল সেন্ড ফিল্টার (জিএসএফ), আর্সেনিক রিমুভাল প্লান্ট ও ডাগ ওয়েল নির্মাণ করেন। ২০০৮ সালে তাদের প্রজেক্ট শেষ হয়। কিন্তু প্রজেক্টের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ার কারণে উল্লিখিত প্লান্ট থেকে মানুষ পানি সংগ্রহ করতে পারেনি। পরে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা পুরো গ্রামে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেন। যার সাম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৫ সালে রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকান্ডের পর ওই প্রকল্প আর আলোর মুখ দেখেনি।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, আর্সেনিকের আগ্রাসন থেকে এ এলাকার লোকদের বাঁচানোর জন্য ১৫ কোটি টাকার অনুদানসহ পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। না সরকার... না কোনো ধনাঢ্য ব্যক্তি। আমরা মনে করি, কাল বিলম্ব না করে এলাকাকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আশা করি সরকার তা করবে এবং এ মুহূর্তেই।

 

"