ভোট উৎসবে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ভোট উৎসবে মেতে উঠেছে বাংলাদেশ। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়েই যেন উৎসবের ফিতে কাটল নির্বাচন কমিশন। গত ৯ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে সিইসি তার ভাষণে জানালেন, আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেগে উঠল টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। চারপাশে সাজসাজ রব। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর। বাছাই ২২ নভেম্বর এবং প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে এ তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সব রাজনৈতিক দলই এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সিইসির এই আশাবাদের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশও একই কথা বলছে। ঐক্যফ্রন্ট তাদের প্রচারণায় অনেক সময় নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কথাই বলছেন এবং বলেছেন, যা সিইসির বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে যাবেন- এটাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এদিকে সিইসি সব মহলকে আশ্বস্ত করার লক্ষ্যে জানিয়েছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেভাবে হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবেÑ সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান) মোতায়েনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে সেনাবাহিনী।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন পুরোটাই ভোটকেন্দ্রিক। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার অলিগলিতে এখন একটিই আলোচনা। দলভিত্তিক কোথায় কে পেতে যাচ্ছেন নমিনেশন। চলছে নমিনেশন পাওয়ার প্রতিযোগিতা। বেড়েছে প্রতিযোগীদের দৌড়ঝাঁপ। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ তাদের মনোনয়নপত্র বিক্রির কাজ শুরু করেছে এবং প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন। দলটির সভানেত্রীর ঢাকাস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এ মনোনয়নপত্র দেওয়া হচ্ছে। তবে অন্যান্য দলের মনোনয়নপত্র বিলির কাজ এখনো শুরু না হলেও বলা যায়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সর্বত্র এ কাজের ইতিবাচক দৃশ্যাবলির পূর্ণাঙ্গ চিত্র অবলোকন করতে পারব। দেশ একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়।

এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। আইনশৃঙ্খলা খাতে রাখা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। ভোটকেন্দ্র ৪১ হাজার ১৯৯টি। ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি আর এই মহাকর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিয়োজিত থাকবেন ৭ লাখেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। আমরা আশা করব, সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ এবং ইলেকশন কমিশন নির্বাচনকে নান্দনিক করার প্রশ্নে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সংবিধানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবেনÑএটাই ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশা।

 

"