জবাবদিহি কোথায়

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

নাহ; কোত্থাও নেই। জবাবদিহির লেশমাত্রও নেই। বিশেষ করে যানচালক ও শ্রমিক এবং ডাক্তারদের জন্য কোনো জবাবদিহির চিহ্নটুকুও খুঁজে পাওয়া যায় না এখানে। তাদের সব অন্যায় ঢাকা পড়ে যায় সিন্ডিকেটশাসিত সমাজব্যবস্থায়। মাঝেমধ্যে মনে হয়, এখানে মানবসভ্যতার অপমৃত্যু হয়েছে। সভ্যতার দাবিদার মানুষরাই যখন জবাবদিহির প্রশ্নে সিন্ডিকেটশাসিত সমাজব্যবস্থাকে লালন-পালন করতে অধিকতর আগ্রহী, তখন জবাবদিহির জন্য অপমৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকার সুযোগ নেই। চিকিৎসাসেবা এবং সড়ক পরিবহনে এই অপমৃত্যুর সংখ্যা যেন জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি বাম কিডনি অপসারণের সময় রওশন আরা বেগমের ডান কিডনিও অপসারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের সময় সার্জনরা রক্তক্ষরণের কারণে দিকনির্ণয়ে ভুল করেছেন। তবে এটি চিকিৎসকদের গাফিলতি না অজ্ঞতা, তা নির্ণয় করতে ফের তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে গাফিলতি বা অজ্ঞতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধান নেপ্রলজিস্ট অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশীদ জানিয়েছেন, একটি কিডনি অপসারণ করতে গিয়ে চিকিৎসকরা দুটি কিডনিই অপসারণ করেছেন। রোগীর ফাইল জব্দ করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং সিটিস্ক্যান রিপোর্টে দুটি কিডনিরই অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

অন্য এক ঘটনায় পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় তাসলিমা খাতুন (২৬) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার নিরাপদ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার ওই হাসপাতালে ডা. রাজু আহমেদের নেতৃত্বে সিজারের মাধ্যমে তসলিমা একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। এরপর তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন। কিন্তু গত সোমবার সকালে কর্তব্যরত নার্স তসলিমার শরীরে ইনজেকশন পুশ করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং কিছু সময়ের মধ্যে তিনি মারা যান। এ ব্যাপারেও তদন্ত চলছে।

এ দেশেই শুধু নয়, পৃথিবীর সর্বত্রই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশের সঙ্গে অন্য দেশের পার্থক্য আছে। পার্থক্যটা ক্ষেত্রবিশেষ আকাশ ও পাতালে। এ দেশে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেÑএ দুটি পেশাজীবীদের নাম উল্লেখ করতে পারি। এ যাবৎ এ দেশে এদের অপরাধের কোনো ন্যায়বিচার হয়েছেÑএমন উদাহরণ নেই বললেই চলে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এ দুটি ঘটনার তদন্ত কোনদিকে মোড় নেবে, তা বলা খুবই কঠিন। তবে সাধারণ মানুষের ধারণা, অচিরেই তদন্তসহ সবকিছুই ডিপফ্রিজে সমাহিত হবে। অথবা বলা যায়, কিষেন চন্দের ‘বৃক্ষ কাহিনি’র মতো অনন্তকাল চলতেই থাকবে এ তদন্ত। আমরা কেউই তা প্রত্যাশা করি না। আমরা মানুষকে মানুষের আচরণে দেখতে চাই। সিন্ডিকেটের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে চাই সত্য-সুন্দরের জয় হোক।

 

"