এ ধারা অব্যাহত থাকুক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ভারত। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ ভারতের সঙ্গেই হয়ে থাকে। একসময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ওপর। তার মধ্যে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের ওপর এবং রফতানির পরিমাণ মাত্র দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার। ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের ওপর। এ বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি কীভাবে কমানো যায়, এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং তা কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। আশার কথা, ভারতের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমছে। এর মূলে রয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরের গুরুত্ব। চলতি বছর ভারতে রফতানি পরিসংখ্যান তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গত বছরে অক্টোবরের প্রথম পনেরো দিনে ১ হাজার ৪৫ ট্রাক পণ্য রফতানি হলেও চলতি বছর একই সময়ে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৮১১টি ট্রাক। রফতানি বৃদ্ধির হার শতকরা ৪২ দশমিক ৩০ ভাগ। গত বছরের জুলাই থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৫ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। চলতি বছর একই সময়ে তা বেড়ে ১০ হাজার ৭৯১ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। প্রবৃদ্ধি শতকরা ৬৮ ভাগ। একসময় রফতানিতে বেনাপোলে বহুবিধ বাধা ছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে রফতানি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়ায় সুফল পেতে চলেছে বেনাপোল কাস্টমস। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘ভারতে রফতানি দ্বিগুণ কমছে বাণিজ্য ঘাটতি’ শীর্ষক বেনাপোল প্রতিনিধির পাঠানো একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, রফতানিতে সময়ের শীর্ষে এখন বেনাপোল। এই কাস্টম হাউসকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে বন্ধ হচ্ছে রাজস্ব ফাঁকি, বদলে গেছে শুল্কায়ন ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া। কমে আসছে, বাংলাদেশ-ভারত দুদেশের বাণিজ্য বৈষম্য।

বেনাপোল বন্দরে আধুনিকায়নের যে ছোঁয়া লেগেছে, তাতে আগের চেয়ে রফতানির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে, যা থেকে বছরে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমনকি ভারতে জয়েন্ট কাস্টমস গ্রুপের সভাতেও বেনাপোল কাস্টমসের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করা হয়েছে, নিংসন্দেহে এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে আমরা চাই, এ স্থলবন্দরটিকে আরো কীভাবে বহুমুখী সুবিধা প্রদানের উপযোগী করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। ভারতে যেসব কারণে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি ব্যাহত হয়, তা এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব বাধা দূরীকরণে সরকারকে আরো কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বোপরি রফতানি বাণিজ্যে সাফল্যের যে ধারা শুরু হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে তা অব্যাহত রাখতে হবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

"