দূষণবৃত্তে জিম্মি রাজধানী ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, এক দশক আগে বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে বছরে মারা গেছে ১৫ হাজার মানুষ। ২০১৫ সালের জরিপ বলছে, এ সংখ্যা প্রায় ১৫ গুণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার। এই সোয়া দুই লাখের মধ্যে রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে মারা গেছে প্রায় ৮০ হাজার। এ সংখ্যা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের ১০ গুণ। কেবল বায়ুদূষণই নয়; সব ধরনের দূষণ ঢাকা শহরকে চারদিক থেকে ঘিরে একটি বৃত্তের মাঝে আটকে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ আইনকে হালনাগাদ করা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে এবং হালনাগাদ শেষে তা বাস্তবায়ন না করলে এ দূষণের মাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও অনুমান করা খুব একটা কঠিন কর্ম নয়। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে রাজধানী। ইটভাটা, পুরনো গাড়ি, বিষাক্ত বর্জ্য, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ ঢাকাবাসীকে এক মৃতের উপত্যকা উপহার দিয়েছে। এ শহরে একদিকের বাতাস অবলীলায় অন্যপ্রান্তে ছুটে যেতে পারে না। বদ্ধ-বিষাক্ত বাতাসের মাঝে বসবাস বলেই তাদের দেহকে গ্রহণ করতে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত গ্যাস ও পার্টিকেল।

বর্তমানে রাজধানীর দৈনিক পানি চাহিদা ২৩ কোটি লিটার। যার ৮০ শতাংশ আসে গভীর নলকূপের মাধ্যমে। এতে প্রতি বছরই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে দুই থেকে তিন মিটার। এভাবে চলতে থাকলে একসময় ভূগর্ভস্থ থেকে পানি আহরণ আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। আর সে কথা স্মরণে রেখেই রাজধানীর এক কোটি বাসিন্দাকে নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা ভরসা করেছিল মেঘনা নদীর ওপর। কিন্তু সে গুড়ে বালি পড়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যমতে, শিল্প-কলকাখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য সরাসরি ওই নদীতে ফেলায় সেখানকার পানি দ্রুত দূষিত হয়ে পড়ছে। আর সে কারণে মেঘনা নদীর পানির গুণগত মান অনেকটা খারাপের দিকে গড়িয়েছে। এত দিন প্রচলিত একটি ধারণা ছিল, মেঘনা নদীর পানির মান ভালো। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেল মান অনেকটা নি¤œমুখী হয়েছে। আর দূষণ প্রবৃদ্ধির প্রবণতা এতটাই বেশি যে, ২০২১ সালের মধ্যে মেঘনার পানি পরিশোধন করা কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি পরিশোধন ব্যয় আরো দুই হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে হবে। ইতোমধ্যেই রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী ও জলাভূমি দূষণ ও দখলের শিকার হয়ে প্রায় মৃত অবস্থায় চলে গেছে। ধলেশ্বরী নদীও ধুঁকছে চামড়াশিল্প নগরীর দূষণে। মেঘনা নদী তুলনামূলক বিচারে অনেকটা ভালো অবস্থায় ছিল। কিন্তু অন্যান্য নদীর ন্যায় অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও শিল্পবর্জ্যরে কারণে এই নদীর অবস্থাও দ্রুত অবনতি হয়ে ধলেশ্বরীর মতো রুগ্ণ হওয়ার পথে।

আমরা মনে করি, ঢাকাবাসীর জন্য সুপেয় ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বাগ্রে দূষণের হাত থেকে মেঘনাকে রক্ষা করার কাজে মনোযোগী হতে হবে। কেননা নদীর পানি শোধনের অনুপযোগী হয়ে পড়লে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে শোধনাগার নির্মাণ করে কোনো লাভ হবে না। সব প্রচেষ্টাই মুখ থুবড়ে পড়বে, যা আমাদের কাম্য নয়।

 

 

"