পর্যবেক্ষণ

অবহেলিত সন্তান ফিলিস্তিন

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

রায়হান আহমেদ তপাদার

বিগত প্রায় দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে শুধু মুসলমান শাসকরাই ইহুদি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আন্দালুসিয়ার মুসলমান শাসকদের সময়কালকে ঐতিহাসিকরা ইহুদি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গ্রিকদের হাতে, রোমানদের হাতে, সেলজুক খ্রিস্টানদের হাতে মার খেয়ে উদ্বাস্তু হয়ে হাজার বছর আগে অনেক ইহুদি মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসতি ও ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে তুলেছিল। কালের বিবর্তনে অনেক ইহুদি যেমন খ্রিশ্চানিটি অথবা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল, আবার অনেকেই নিজ ধর্মে অবিচল থেকেও মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিস্টান ও মুসলমানদের সঙ্গে শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছিল। কোটি কোটি মুসলমান ও খ্রিস্টানের পাশাপাশি কয়েক লাখ ইহুদি কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়নি। তবে ইউরোপে ইহুদিদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক উচ্চাভিলাষ প্রায় প্রতিটি দেশেই সামাজিক-রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইহুদিরা সমাজে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করলেও উনবিংশ শতকে ইহুদিদের মধ্যে জায়নবাদী রাজনৈতিক চেতনা দানা বাঁধার আগে এ সমস্যা কখনো এতটা প্রকট হয়ে উঠেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার ও অক্ষশক্তির পরাজয়ের মধ্য দিয়ে হিটলারের ইহুদি গণহত্যা একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়। জার্মানিসহ নাৎসিদের অধিকারে থাকা ইউরোপীয় দেশগুলোর বাস্তুচ্যুত ইহুদিদের নিজ নিজ রাষ্ট্রে পুনর্বাসনের বদলে অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাদের ফিলিস্তিনের ভূমিতে পুনর্বাসিত করার পেছনে ছিল পশ্চিমাদের সম্মিলিত সা¤্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নীলনকশা।

কিন্তু ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিমা সহায়তায় একদিকে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বশান্তির জন্য একটি ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দানবে পরিণত হয়েছে; অন্যদিকে ছয় দিনের যুদ্ধে দখল করা আরবদের ভূমি ফেরত দেওয়া দূরের কথা উপরন্ত ফিলিস্তিনিদের আওতাভুক্ত এলাকায় নতুন নতুন ইহুদি বসতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে জায়নবাদের সম্প্রসারণবাদী নীতির বাস্তবায়ন ঘটিয়ে চলেছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে পুনর্বাসন এবং একটি স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে তাদের অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পশ্চিমাদের যেন কোনো দায় নেই। ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরব প্রতিবেশীদের ওপর আগ্রাসী মনোভাব উসকে দিয়ে ইঙ্গ-মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদ প্রকারান্তরে ইসরায়েলকে একটি স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি। এ কারণে গত ৭০ বছরেও সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে প্রতিবেশী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের একতরফা সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতার পরও ইসরায়েল ক্রমেই আরো বেশি বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়ে পড়ছে। এই বিচ্ছিন্নতা এখন খোদ গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও গ্রাস করতে শুরু করেছে। একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নপূরণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালফোরের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ইহুদিরা ইঙ্গ-মার্কিনদের পক্ষ নিয়েছিল। বালফোরের ডিক্লারেশনের পর তিরিশ বছরেও ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও ইহুদিদের জন্য একটা আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উপযোগী জনসংখ্যা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি গণহত্যা নিয়ে ইহুদি প্রভাবিত মিডিয়াগুলো ইহুদি নির্যাতনের ফ্যাক্টসকে মিথ পরিণত করে। এই মিথ এতটাই প্রবল ও একতরফা প্রভাব সৃষ্টিকারী ছিল যে বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী মিত্রশক্তি মধ্যপ্রাচ্যকে তাদের অধিকৃত অঞ্চল হিসেবে ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। প্রথমে রাষ্ট্রকে চার্চ থেকে আলাদা করে ফেলা অতঃপর ইউরোপে শিল্পবিপ্লবের পর খ্রিস্টবিশ্ব কার্যত ধর্মীয় ভাবাবেগ পরিত্যাগ করলেও তারা কখনো ক্রুসেডের স্মৃতি ভুলে যায়নি। এর পরও ফিলিস্তিনে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় জেরুজালেম নগরীকে একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়ে তা ইহুদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা হয়েছে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তির প্রাককালে ছয় দিনের যুদ্ধে জেরুজালেম, গোলান মালভূমিসহ আরবদের কাছ থেকে বিশাল ভূভাগ দখলে নেওয়ার পেছনে ছিল পশ্চিমাদের সাম্রাজ্যবাদী নীলনকশা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন যুদ্ধে বেশ কিছু রাষ্ট্রে ভূমির দখলদারিত্ব ও ভাগাভাগির শিকার হলেও এসব সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ ও পদক্ষেপ যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা লঙ্ঘন করে ইসরায়েল বারবার ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যাসহ বিভীষিকাময় নির্যাতন চালাচ্ছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে দেড় দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে একই কাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও করে যাচ্ছে। সম্ভবত এ কারণেই ২০০৬ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ গঠিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ এই সংস্থায় যোগ দিতে রাজি হননি। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানিবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে যোগ দেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এহেন ভূমিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কট্টর ইসরায়েল সমর্থক ও যুদ্ধবাদী ব্যক্তিদের নিয়ে তার প্রশাসন ও কূটনৈতিক দল সাজিয়েছেন। এদের মধ্যে মাইক পম্পেও, জন বোল্টনের পাশাপাশি জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির নাম করা যায়। জাতিসংঘে নিকি হ্যালির ভূমিকাও দেখে বিভ্রান্ত হতে হয় তিনি কি সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি নাকি ইসরায়েলিদের নিয়োগ দেওয়া এজেন্ট! দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, ন্যাটো, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রভাব সৃষ্টি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইরান, ইরাক, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, ভেনিজুয়েলাসহ বেশকিছু দেশের ওপর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে সক্ষম হলেও তাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা ক্রমেই শিথিল হয়ে পড়ায় এবং ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে আর ধামাচাপা রাখা সম্ভব না হওয়ায় এখন মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে নাম প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে ইসরায়েল আসলে মার্কিনদের পরিপুষ্ট একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এত দিন নানা অজুহাতে অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অনেক দেশকেই তারা ‘প্যারিয়াহ’ বা বিশ্বসম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার পর এখন তারা নিজেরাই বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন একে একে টিপিপি, ইরানের পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তি, ফিলিস্তিন প্রশ্নে ‘টু স্টেট সলিউশন’ নীতি, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে গুটিয়ে নিলেও এসব সংস্থা ও চুক্তি অকার্যকর হয়ে যায়নি। বিশ্বশান্তির পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত মানবিক উদ্যোগগুলো থেকে মার্কিনদের এই স্বেচ্ছা বিচ্ছিন্নতার অর্থ হচ্ছে নেতৃত্ব এবং বিশ্বের সাধারণ সভ্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান গুটিয়ে নেওয়া। বিশ্বে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির নেপথ্য কুশীলব হিসেবে এমনিতেই নেতৃত্বের নৈতিক অধিকার হারিয়েছে মার্কিনরা। ইসরায়েলি আগ্রাসন, দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিশ্ব জনমত যখন প্রতিবাদে সোচ্চার; তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অমানবিক নির্লজ্জতার নিকৃষ্ট উদাহরণ। সিআইএর সাবেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফিলিপ জিরালদির লেখা একটি নিবন্ধ গত ২৮ জুন আইসিএইচ অনলাইনে প্রকাশিত হয়। ‘দ্য ইউনাইটেড স্টেটস উইথড্রজ ফ্রম দ্য ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের নাতিদীর্ঘ নিবন্ধে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সংস্থা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার এবং জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির ভূমিকা ও নানা মন্তব্যের কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘে কূটনীতিক হিসেবে সাবেক ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদের নিয়োগে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে কংগ্রেশনাল হিয়ারিংয়ে নিকি হ্যালিকে প্রশ্ন করা হয়, এটা কি তোমাদের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যে ইসরায়েলকে সাপোর্ট করার পাশাপাশি যোগ্যতাসম্পন্ন কূটনীতিকদের জাতিসংঘে যোগদান থেকে রহিত করা? জবাবে নিকি বলেছিলেন, হ্যাঁ, আমাদের প্রশাসন ইসরায়েলকে সমর্থন করার প্রত্যেক ফিলিস্তিনিকে অবরুদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি যখন একটি অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র এবং বিশ্বের ৮০ ভাগ মানুষ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছে। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পেছনে একা দাঁড়িয়ে কূটনৈতিক দেউলিয়াত্বের মুখে পড়েছে। বিশ্বনেতারা বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির কথা ভাববে। পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির বুনিয়াদ গড়ে উঠেছে এশিয়া-আফ্রিকার মানুষদের সম্পদ লুণ্ঠন ও শ্রম শোষণের মধ্য দিয়ে। এসব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল কারিগর এখনো অভিবাসি নাগরিকরাই। বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে আফ্রো-এশিয়ান কৃষ্ণাঙ্গ ও তামাটে মানুষদের অবদান অনেক বেশি। বহুভাষা ও সংস্কৃতির মানুষদের একই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পতাকাতলে শামিল করে একটি সমৃদ্ধ মার্কিন জাতি গঠনই ছিল আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদারদের মূল লক্ষ্য। জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিঙ্কন থেকে জন এফ কেনেডি, মার্টিন লুথার কিং থেকে বারাক ওবামা পর্যন্ত এই স্বপ্নের লালন অক্ষুণœ ছিল। বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যমুক্ত উদার গণতান্ত্রিক আমেরিকা ও বিশ্ব গড়ে তুলতে মার্কিন ফাউন্ডিং ফাদারদের সেই স্বপ্ন এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে চুরমার হতে চলেছে।

লেখক : গবেষক, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

raihan567@yahoo.com

 

"