ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

অনেক দেরিতে হলেও গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হয়েছে। ভুক্তভোগী জনগণকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পেরেছেন আদালত। এ রায় পেতে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে এ দেশের মানুষকে। অপেক্ষা করতে করতে তাদের শোকের মাত্রা ব্যারোমিটারের নিচের দিকে অনেকটা নামার পর যেন এই পাওয়া। আহত ও নিহতদের স্বজনরা রায় শোনার পর তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তারা বিচার পেয়েছেন। তবে মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানকে কেন মৃত্যুদ- দেওয়া হলো না, তা তারা বুঝে উঠতে পারেননি।

এক যুগ আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে এই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলা থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে প্রাণে বাঁচালেও গুরুতর আহত হন তিনি। মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আইভি রহমানসহ নিহত হন ২৪ জন। আহত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর তদন্ত শেষে দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হুজি নেতা মুফতি হান্নান, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়।

এই হামলা প্রশ্নে নানামুখী বিতর্ক হয়েছে রাজনীতিতে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই এ হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে এসেছে। বিপরীতে বিএনপি জড়িত নয় বলে জানিয়ে এসেছে। গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে একই সময়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত ছিলেন না এবং বিএনপি এখনো তাদের সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেনি। তবে আদালতের রায় বলেছেন, তারেক রহমান ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, আদালতের এই রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে আশাজাগানিয়ার গান শোনাতে সক্ষম হয়েছে। স্বাধীনতার পর কোনো জনসভায় এ ধরনের পৈশাচিক হামলার ঘটনা ঘটেনি। এত হতাহতের দৃশ্যও অবলোকন করতে হয়নি। বিচারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ার পর আমাদের রাজনীতিবিদদের রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার ও চর্চার পথ দেখিয়েছে। বোধোদয় হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ জন্য রায়কে স্বাগত জানানো যায় এবং একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থাপনাকেও আন্তরিক অভিনন্দন।

 

 

"