সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

কৃষি আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। এমনকি কৃষি আমাদের সংস্কৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কৃষির উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন, জনমানুষের জীবন ও সংস্কৃতির উন্নয়ন। কৃষি বলতে শুধু ধান আর পাট উৎপাদন নয়, এর ক্ষেত্র এখন সম্প্রসারিত হয়েছে। পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও কৃষি এখন ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আর এ ক্ষেত্রে সর্বত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের কৃষিবান্ধব সরকার। জনগণের কাছে তারা দিনবদলের যে অঙ্গীকার করেছিল, সাধারণ মানুষ আজ তার ফল পাচ্ছে। দেশ আজ খাদ্যে শুধু স্বয়ং সম্পূর্ণই নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও জোরদার ভূমিকা রাখছে।

কৃষি উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে এগারোটি ফসলের উৎপাদন বাড়াতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ৭৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গত রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সে ক্ষেত্রে এবার ৬ লাখ ৯০ হাজার ৯৭০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই প্রণোদনা পাবে। প্রণোদনার অর্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে; এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না বলে জানান মন্ত্রী। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে প্রণোদনার অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে মতিয়া চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রণোদনা বিতরণে অনিয়ম হলে তা আপনারা তুলে ধরবেন, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমাদের বিবেচনায় নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এবার তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে এর প্রতিটি অর্থ সঠিক ব্যক্তির হাতে পৌঁছায়। কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। কৃষিজমি কমতে থাকা, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম ও ভুট্টা বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর চাল ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগসহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম।

বর্তমান সরকারের পরপর দুই মেয়াদে চার দফায় সারের দাম কমানো হয়। ১০ টাকার বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, সেচের পানির ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয় এবং সেই সঙ্গে ১ কোটি ৮২ লাখ কৃষকের মধ্যে উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। যুগান্তকারী এসব পদক্ষেপের ফলে কৃষিতে এসেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। আমরা মনে করি, যেভাইে হোক, সাফল্যের এ ধারা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।

"