বিশ্লেষণ

দূষণজনিত মৃত্যু এবং...

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সাধন সরকার

অতিসম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের পরিচ্ছন্নতা ও স্থিতিশীল উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধীকরণ (বাংলাদেশ পরিবেশ সমীক্ষা-২০১৮)’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ দূষণের কারণে বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ। ১৩৩টি দেশের মধ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিক থেকে ৯৭তম আর দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অবস্থান ৯৮। শুধু শহর অঞ্চলে দূষণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। দূষণের কারণে ২০১৫ সালেই শহরাঞ্চলে মারা গেছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ (শুধু রাজধানী ঢাকায় ২০১৫ সালে মারা গেছে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ)। এর মধ্যে বায়ুদূষণজনিত কারণে মারা গেছে প্রায় ৪৬ হাজার আর পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিসম্মত কারণে মারা গেছে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষ। এর এক-তৃতীয়াংশই শিশু। বাংলাদেশে ২০১৫ সালে মোট মৃত্যুর ২৮ শতাংশের কারণ পরিবেশ দূষণজনিত অসুখ-বিসুখ। সমীক্ষায় আরো বলা হয়েছে, দেশের শহরাঞ্চলে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ সিসাদূষণের ঝুঁকিতে বসবাস করছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু। এ দূষণের কারণে শিশুর মেধা ও বুদ্ধিমত্তার ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় শিশুমৃত্যুর হার বাড়ছে। রাজধানী ঢাকার বাতাসে দূষণ বিশেষ করে ‘বায়ুদূষণ’ প্রতিদিনই বাড়ছে। পরিবেশ দূষণে জনজীবন যেমন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে ব্যাপক। সম্প্রতি ২০১৮ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত ‘ইউএস এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের’ (একিউআই) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকায় ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে। মূলত বাতাসের গুণাগুণের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরিবেশগত সুরক্ষা সংস্থা’ (ইপিএ) সূচকটি তৈরি করেছে। এই সূচকে এর আগেও ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এবার ঢাকার বাতাসকে বলা হয়েছে ‘ভেরি আনহেলদি’ বা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশনের’ যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি- ২০১৭’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা। সত্যি দুঃখ হয়, ঢাকা শহরের মতো নদীবেষ্টিত সুন্দর শহরটা আজ দূষণে জর্জরিত। দিনে দিনে দূষণ বাড়ছে ছাড়া কমছে না। বায়ুতে যেসব ক্ষতির উপাদান আছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক উপাদান হচ্ছে ‘পিএম ২.৫’। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সহজেই শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ ও হৃদরোগের পরিমাণ বাড়ায়। ‘পিএম ২.৫’-এর কারণে অ্যাজমা ও ফুসফুসের ক্যানসারও হতে পারে। ধুলাদূষণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। আইন অমান্য করে অনেক পুরনো লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন রাজধানীতে চলছে। এসব গাড়ির কালো ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। রাজধানীতে ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। ধুলাদূষণ রোধে রাস্তায় সিটি করপোরেশন থেকে পানি ছিটানোর কথা থাকলেও তা নিয়মিত দেখা যায় না। রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়নকাজের সমন্বয়হীনতার কারণেও বাড়ছে ধুলাদূষণ। পরিবেশ অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় ধুলাদূষণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে তিন গুণ বেশি। অবস্থা এতই খারাপ, রাস্তার ধুলা ঘরের ভেতরেও প্রবেশ করছে।

বাংলাদেশের বহু শিশু বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, দূষিত বাতাসে শ্বাস নিলে শিশুর সুনির্দিষ্টভাবে মস্তিষ্কের টিস্যু ও জ্ঞানের বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার প্রভাব পড়তে পারে জীবনভর। অল্প বয়সের শিশুরা দ্রুত শ্বাস নেয়, ফলে বায়ুদূষণের কারণে এরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুর জন্য অপুষ্টি ও সহিংসতা যেমন মারাত্মক, তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর বায়ুদূষণ। মারাত্মক দূষণের কারণে শিশুদের স্নায়ু প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি ‘ইউনিসেফের’ (জাতিসংঘের শিশু তহবিল) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে এক বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে হয়। আরো বলা হয়েছে, এসব শিশুর তিন-চতুর্থাংশের বেশি দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করে। তথ্য মতে, বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটির বেশি শিশু ‘ঘাতক’ বায়ুদূষণের শিকার। ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্য বিভাগীয় শহরগুলোয় সবমিলিয়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটে বায়ুদূষণে। বায়ুদূষণের প্রধান কারণ মূলত মনুষ্যসৃষ্ট। তবে ধুলাঝড়সহ অন্যান্য কিছু কারণের মতো প্রাকৃতিক কারণেও বায়ুদূষণ হয়ে থাকে। বায়ুদূষণ নীরব ঘাতক। শীতকালে অতিমাত্রায় বায়ুদূষণ হয়ে থাকে। এ সময় নানা কারণে বায়ুতে কার্বন-মনো অক্সাইড, সিসা, সালফার-ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরোকার্বনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস ও পদার্থ বায়ুতে বেশি মিশে যায়। বায়ুদূষণে শিশুর হাঁচি, কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ (হাঁপানি, ফুসফুসের প্রদাহসহ জটিল রোগ) দেখা দেয়। যেসব শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, সেসব শিশু দূষণে বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে নানাভাবেই বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ, মাটিদূষণ হচ্ছে।

আবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের’ (আইএফপিআরআই) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে মানুষের মেধা কমে যায়। বয়োজ্যেষ্ঠদের মস্তিষ্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রাজধানী ঢাকসহ বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় দূষণজনিত সমস্যা দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে। শহরগুলোয় বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলো হলো আশপাশের ইটভাটার দূষণ (প্রায় ৫৮ ভাগ দায়ী) রাস্তাঘাটের ধুলাদূষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দূষণ, শিল্প-কারখানার দূষিত ধোঁয়া, সিসার দূষণ, ময়লা-আবর্জনার দূষণ, বস্তিতে ব্যাটারিসহ শিল্পবর্জ্যরে দূষণ ইত্যাদি। সম্প্রতি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের শিকার হয়ে বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। বিশ্বে ১০ জনের মধ্যে নয় জনই শ্বাস নিচ্ছেন দূষিত বায়ুতে! সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিশ্বে ২০১৬ সালে বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৪২ লাখ মানুষের। দূষিত বাতাসে ক্ষতিকারক গ্যাস ও ধুলার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে ফুসফুস ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা রোগের ঝুঁকি। ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের’ (একিউআই) আন্তর্জাতিক মানমাত্রা অনুযায়ী প্রতি মাইক্রোগ্রাম বাতাসে শূন্য থেকে ৫ মাইক্রোমিটার উত্তম বায়ু, ৬-৫০ মাইক্রোমিটার মধ্যম বায়ু, ৫১-১০০ মাইক্রোমিটার দূষিত বায়ু, ১০১-২০০ মাইক্রোমিটার অস্বাস্থ্যকর বায়ু, ২০১-৩০০ মাইক্রোমিটার মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর বায়ু বলে ধরা হয়। তথ্য মতে, ঢাকার বাতাসে প্রতি মাইক্রোগ্রাম বাতাসে এর পরিমাণ প্রায় ২০০ মাইক্রোমিটারের অধিক। গৃহস্থালি বায়ুদূষণও শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে রান্নাঘর (রান্নার জন্য লাকড়ি ও গোবরের ব্যবহার) থেকেও দূষণ ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে বায়ুদূষণে বছরে জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়।

শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক তিনটি দিকের জন্যই হুমকি বায়ুদূষণ। দেশে নতুন ধরনের অজ্ঞাত রোগ দেখা দিচ্ছে। শিশুরা এখন অল্প বয়স থেকেই নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দূষণের শিকার হয়ে কোনো কোনো সময় শিশু অস্বাভাবিক আচরণ করছে, আগের মতো মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না, স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে। বায়ুদূষণের কারণে শিশুর যে রোগ হতে পারে অধিকাংশ অভিভাবক তা বিশ্বাসই করতে চান না! আবার ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তারও হয়তো বলছেন না যে রোগটি দূষণজিনত কারণে হয়েছে! কিন্তু বাস্তবতা হলো, পৃথিবীতে এখন দূষণজনিত রোগের সংখ্যাই বেশি। বায়ুদূষণসহ সব ধরনের দূষণ এখন জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। বায়ুদূষণের কারণে শিশুর স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ও বেড়ে ওঠা ব্যাহত হচ্ছে। বায়ুদূষণ থেকে শিশুসহ সবাই যদি সুরক্ষিত থাকে, তাহলে শুধু উপকার-ই নয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচও সাশ্রয় হবে। গ্রামের চেয়ে শহরের শিশুরাই বেশি বায়ুদূষণের শিকার। শহরের বস্তি ও দরিদ্র এলাকার শিশুরা সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে। জীবনের শুরুতে একটি শিশুদূষণের শিকার হলে তার ভবিষ্যৎ জীবন এলোমেলো হয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। দূষণ রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই। দূষণের উৎসগুলো সবাইকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।

এক কথায়, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বায়ুদূষণসহ সব ধরনের দূষণের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকা উচিত। জনস্বাস্থ্য ও মেধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হুমকি এই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনই বিধিমালা বা নীতিমালা প্রণয়ন করার পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা উচিত। দুঃখের বিষয়, প্রতি বছর বাংলাদেশে যে পরিমাণ গাছ কাটা হয়, সে পরিমাণ গাছ লাগানো হয় না। তাই দূষণ রোধে ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নগর এলাকায় সবুজ বেষ্টনী বাড়াতে হবে। দূষণ থেকে বাঁচার জন্য সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে শিশুসহ সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। ইটভাটাগুলোকে উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণসহ পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পরিবেশের ছাড়পত্র নেই এমন দূষণ সৃষ্টিকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযান চালাতে হবে। এ ব্যাপারে পরিবেশ আইনের পূর্ণ প্রয়োগে শিথিলতার ফল হবে ভয়ানক। বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার আশপাশের ইটভাটা ও শিল্প-কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন করা জরুরি। শহরগুলোয় বাসযোগ্য করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ব্যাপক দূষণের শিকার হতেই থাকবে! নগরবাসীর প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার নিয়ে হেলাফেলা করার কোনো সুযোগ নেই। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দূষণ রোধ করা। যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী উন্মুক্ত করে রাখা যাবে না। নির্মাণকাজের সময় ধুলানিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে। যানবাহনের কালো ও পোড়া ধোঁয়া বের হওয়া বন্ধে ফিটনেসবিহীন ও অধিক পুরনো যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব চুলা ও জ্বালানির (নবায়নযোগ্য শক্তি) ব্যবহার বাড়াতে হবে। ক্ষতিকর রেডিয়েশন রোধে নিয়মনীতি মেনে মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপন করতে হবে। দূষণ রোধে সরকারের সব সংস্থা, প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশি-বিদেশি প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত উন্নয়নে জোর দিতে হবে। শহর এলাকায় টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। পরিবেশ দূষণ রোধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিটি শিশুর জন্য ও সর্বোপরি সবার স্বার্থে বায়ুদূষণ রোধে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দূষণ রোধে সরকার গৃহীত ‘ডেল্টা প্ল্যানের’ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া শহরের আশপাশের নদ-নদী, খাল-বিল, জলাধারগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

sadonsarker2005@gmail.com

"