রাক্ষুসে পদ্মা এবং...

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

রুদ্ররূপিনী পদ্মা! রাক্ষুসে পদ্মা। এ রকম কত নামেই না আমরা তাকে ডাকতে দেখেছি। কখনো সাহিত্যে, কখনো বাস্তবতায়। কাল পরিক্রমায় কত না সূর্যই অস্ত গেছে। কিন্তু পদ্মার এই ভয়ংকর রূপের কোনো পরিবর্তন হয়নি কখনো। গত ৫১ বছরে এই পদ্মা গ্রাস করেছে ৬৬০ বর্গকিলোমিটার ভূমিসহ বিস্তীর্ণ লোকালয়। পদ্মার করালগ্রাসে যে জমি হারিয়ে গেছে তার ওপর এক জোড়া ঢাকা শহরকে অবলীলায় বসানো যেত। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার শীর্ণ-রুগ্ণ দেহটাকে দেখলে যে কারো করুণা হতে পারে। তবে বর্ষায়! তাকে চেনা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

এবার বর্ষার পর পদ্মা হয়ে উঠেছে আরো ভয়ংকর। ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার একটি বৃহৎ জনপদ। হতদরিদ্রদের পাশাপাশি সচ্ছল পরিবারগুলোও তাদের বাস্তুভিটা আর জমি-জিরাত হারিয়ে আজ পথে বসেছেন। বিলীন হয়েছে ৬ হাজার পরিবারের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিলীন হয়েছে সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি ক্লিনিক, মসজিদ-মন্দির, পাকা সড়ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ মানুষের স্থাবর-অস্থাবর বহু সম্পদ। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআই এস) এর তথ্য মতে, গত সাত বছরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার প্রায় সোয়া ১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে নড়িয়া সদরের অস্তিত্ব আগামী এক মাসের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার হুমকিতে পড়েছে নড়িয়া।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা বলেছে, তিন দশক ধরে পদ্মা নদী তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ হয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। অবস্থান ও চরিত্র পরিবর্তনের কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে তারা বলেছেন, ১৯৬৭ সাল থেকে পদ্মা নদীর দুই পাড়ে ভাঙন চললেও ১৯৯৮ সালে তা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। সে সময় পদ্মার উজানে ভারত ফারাক্কা বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে বন্যার পাশাপাশি নদীভাঙনও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর ভাঙন ঠেকাতে এখনো তেমন কোনো সুব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি অথবা বলা যায় গড়ে তোলা হয়নি। যদিও এই নদী বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভাঙনপ্রবণ। তবু এই ভাঙনের প্রতি সেভাবে কোনো সরকারই মনোযোগ দেয়নি। বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপ বা উদ্যোগে এ রোগ সারানো সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন একটি মহাপরিকল্পনা।

আমরা মনে করি, যেহেতু নদীটির উজানে গঙ্গা ও তিস্তা হয়ে যমুনার প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল তাই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ভারতের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে যাবেন এবং রাক্ষুসে পদ্মার করালগ্রাস থেকে আমাদের রক্ষা করবেন।

"