বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

জনসংখ্যা বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শহরের বর্জ্য। ১৯৯১ সালে ঢাকা মেগাসিটিতে জনসংখ্যা ছিল ৬৪ লাখ ৮৭ হাজার। এই জনসংখ্যার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ৫০ একর জমির ওপর তৈরি করে বর্জ্য ডাম্পিং ‘ল্যান্ডফিল’। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে ল্যান্ডফিলের সংখ্যা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে আরো ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ল্যান্ডফিলটির সম্প্রসারণ করা হয়। পাশাপাশি একই সময়ে রাজধানীর আমিনবাজারে ৫০ একর জমির ওপর নতুন করে ল্যান্ডফিলের স্থান নির্ধারণ করা হয়। যার ধারণক্ষমতার মেয়াদকাল শেষ হয়ে গেছে ২০১৭ সালে। নতুন করে ল্যান্ডফিল স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এই ল্যান্ডফিলের আয়ু বেশি দিন হবে না বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তাদের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চক্র বৃদ্ধি হারে বর্জ্যরে পরিমাণ বাড়ছে। আগামী পাঁচ বছর পর এই ম্যাগাসিটির লোকসংখ্যা কত হবে এবং বর্জ্য কী পরিমাণ বাড়বেÑ এ মুহূর্তে তার কোনো সঠিক হিসাব না থাকলেও বলা যায়, ঢাকা যেটুকু পরিবেশবান্ধব আছে সেটুকুও হারাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মুহূর্তে বর্জ্যরে বিকল্প ব্যবহার শুরু করতে না পারলে নিকট ভবিষ্যতে তা হবে ঢাকাবাসীর জন্য এক অশনিসংকেত।

বিকল্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনই হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য সবচাইতে উত্তম ব্যবস্থাপনা। এ ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একসঙ্গে দ্বিমাত্রিক লাভের সূচনা হতে পারে। প্রথমত, ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরিচ্ছন্ন হবে ঢাকা। জমির অপচয় বন্ধ হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। ইতোপূর্বে ২০১২ সালে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। একই বছরে ইতালিয়ান কোম্পানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টার এনভায়রনমেন্ট ফিন্যান্সের সঙ্গে (এসআরএল) চুক্তি হওয়ার পরও তা কার্যকর হয়নি। প্রকল্পটিকে এখনো হিমাগারে রাখা হয়েছে। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটিকে এখনো বাতিল করা হয়নি। আমরা মনে করি, ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সর্বাগ্রে এখানকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন। এত দিন কেন এ নিয়ে কোনো বাস্তবসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি, তা আমাদের জানা নেই। তবে এ কথা সত্য যে, অনেক আগেই বিষয়টির বাস্তবায়ন ছিল সময়ের বাস্তবতা। কিন্তু আমাদের কপালটা এতই মন্দ যে, কুম্ভকর্ণের ঘুম এখনো ভাঙেনি। কবে ভাঙবে, তাও আমরা জানি না। ডিএনসিসির কর্মকর্তারাও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রশ্নে এখনো অন্ধকারে।

এক কালের তিলোত্তমা নগরী হিসেবে খ্যাত এই ঢাকাকে আবারও তার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে দেওয়াটাই হোক আমাদের ধ্যান ও জ্ঞান। কর্তৃপক্ষের কাছে এটুকুই মিনতি।

"