অনুভব

‘ফাদার অব দ্য নেশন’

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. খিজির হায়দার

সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ শুক্রবার। আমন্ত্রণ পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবনে’ গিয়েছি। সেখানে যে বিষয়ে অনুষ্ঠানটি ছিল তা হলো ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইনটেলিজেন্ট ব্রাঞ্চ, ফাদার অব দ্য নেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। অনুষ্ঠানে যদি আমন্ত্রিত না হতাম, তাহলে অনেক কথা অজানাই থেকে যেত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য শুনে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের অনেকেই বিস্ময়ে হতবাক না হয়ে পারেননি। এমনও দেখেছি, বক্তাদের বক্তব্য শুনে অনেকের অশ্রু ঝরেছে। এ এক অবিশ্বাস্য গল্প-কাহিনীর মতো হলেও সত্য। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ও স্পিকারসহ সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও চাঁদপুরের কৃতীসন্তান বর্তমান পুলিশের মহাপরিদর্শক জনাব জাবেদ পাটোয়ারী মহোদয়কে চাঁদপুরবাসীর পক্ষ থেকে অন্তরের অন্তÍস্তল থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই। পুলিশের মহাপরিদর্শক সম্পর্কে একটু কিছু না বললে কার্পণ্যতা করা হবে। পূর্বে তার সম্পর্কে অনেক কিছুই শুনেছিলাম। তিনি একজন সৎ-নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মকর্তা। নিজ চোখে তা দেখলাম এবং শুনলাম। তিনি সত্যিই সৎ ও সম্মান পাওয়ার মতো ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি এক বিরল নজির স্থাপন করেছেন। একবিংশ শতাব্দিতে তিনি যে সিক্রেট ডকুমেন্ট খুঁজে বের করেছেন, তাকে সাধুবাদ না জানালেই নয়।

এ মূল্যবান ডকুমেন্ট এ দেশে এমন সংগঠনও রয়েছে যাদের হাতে তুলে দিয়ে শত কোটি টাকা বা তার চেয়েও বেশি টাকা উপার্জন করতে পারতেন। তিনি তা করেননি। লোভ-লালসা ভুলে গিয়ে সততার পরিচয় দিয়েছেন। তার সততা ও নীতিকে তিনি কারো কাছে বিক্রি করেননি। তিনি উপলব্ধি করেছেন, আজ যারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়েছেন, বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা হয়েছেন, শিল্পপতি হয়েছেন, বিত্তবান হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন-দেশ স্বাধীন না হলে কোনোটিই হওয়া সম্ভব হতো না। জাতির জনকের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন স্বার্বভৌমত্ব দেশ পেয়েছি। যদি এ দেশ স্বাধীন না হতো তাহলে কেউ রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, আইজিপি অথবা সচিব হওয়াটা কেবল দুঃস্বপ্নই থেকে যেত। ঘরে ঘরে তাদের ন্যায় ব্যক্তিত্ববানদেরও দেখা যেত না। সিক্রেট ডকুমেন্টগুলো যথাযথ স্থানে পৌঁছে দেওয়াতে আজ আমরা অজানা অনেক কিছুই জানতে পারলাম। তার কর্মদক্ষতা, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার কারণে অথবা কর্মজীবনের ধারাবাহিকতার জন্য আজ তিনি পুরস্কৃত হয়েছেনÑ এটা তার ন্যায্য পাওনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যত গোপন মূল্যবান ডকুমেন্ট তিনি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন, ইতোপূর্বে কারো দ্বারা তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তিনি এক অবিস্মরণীয় নজীর সৃষ্টি করেছেন। তিনি যা করেছেন, জাতিকে যা দিয়েছেন, জাতি তা যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করবে। শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে ও তার সহযোগীদের স্মরণে রাখবে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি অসাধারণ ঐতিহাসিক ডকুমেন্ট জাতির হাতে তুলে দিয়ে জাতিকে করেছেন ঋণী। তাদেরকে কি ভোলা যায়!

কালের বিবর্তনে অনেক কিছু হারিয়ে যায়। সত্য শত বছর পরে হলেও সত্য হিসেবেই উদ্ভাসিত হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর আমরা ‘সিক্রেট ডকুমেন্টের’ মধ্য দিয়ে সেই সত্যের মুখোমুখি হলাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময় ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১। কী ভয়াবহ ও নির্মম-নির্যাতন তাকে সহ্য করতে হয়েছে বইটি তার একটি নির্মোহ দলিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এ জাতির জন্য সমস্ত জীবন উৎসর্গ করেছেন। এমনকি পারিবারিক জীবনে নিজের ছেলে সন্তানদেরকেও একটু সময় দিতে পারেননি। এ ছাড়া পাকিস্তানীরা বাঙালি জাতির প্রতি বৈষম্য ও বৈরিতা এবং বাঙ্গালিদেরকে বঞ্চনা করাটা তিনি কখনও মেনে নিতে পারেন নি। পাকিস্তানিরা আমাদের করেছিল শাসন ও শোষণ। আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রতিবাদ করতে গিয়েই জাতির জনককে বহুকাল জেল খাটতে হয়েছে। কিন্তু তিনি তাদের অত্যাচারের স্বীকার হয়েও কখনো তাহাদের কাছে মাথা নত করেননি। ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট’ বহু বছর পরে হলেও বর্তমানে জাতির সামনে তা নতুনরূপে আবির্ভূত হলো; যার মধ্য দিয়ে অনেক অজানা ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হলো। কী ধরণের ত্যাগ স্বীকার করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সেই মূল্যবান দলিলপত্র উদ্ঘাটন করেছেন আমাদের চাঁদপুরেরই কৃতি সন্তান বর্তমান পুলিশের আইজিপি (জনাব জাভেদ পাটোয়ারী)। ভাবতেই শিহরিত হতে হয়।

এ ছাড়া জাতি ও বিশ্বদরবারে এ ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট’ চাঁদপুরের কৃতী সন্তান বই আকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর হয়ে গেল তার মোড়ক উন্মোচন। আজ জাতির সামনে সত্যিকারে একটি দলিল তুলে ধরতে পেরেছেন, এ জন্য জাতি তার কাছে থাকবে চিরকৃতজ্ঞ। স্থান-কাল পাত্র সবকিছু মিলিয়েই যখন জাতির সামনে দুর্লভ মূল্যবান সিক্রেট ডকুমেন্ট মধ্য দিয়ে অনেক অজানা তথ্য আজ জাতি জানতে পেরেছে। অনেকেই বক্তব্য শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আজ সিক্রেট ডকুমেন্ট বিশ্বাসের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবে, খুঁজে পাবে জাতির জনকের আত্মত্যাগের কথা। এ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। দূর হবে ভেদাভেদ। ষড়যন্ত্র করে কেউ কোনোদিন তা নস্মাৎ করতে পারবে না । পরিশেষে বলব, শতবর্ষ পর হলেও সত্যের জয় হয়।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও সমাজসেবক

"