রাহুর কবলে খাদ্যগুদাম

প্রকাশ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

রাহুর কবলে পড়লে চাঁদের কী অবস্থা হয়, তা আমাদের জানা। কিন্তু খাদ্যগুদাম যখন রাহুর কবলে পড়বে, তখন গুদামের কী অবস্থা হবে, তা বলা মুশকিল হলেও অনুমান করা কঠিন নয়। সম্প্রতি এ রকম একটি গুদামের কথা উঠে এসেছে পত্রপত্রিকায়। যে গুদামের প্রায় পুরোটাই রাহুর কবলে। আমরা ঢাকার তেজগাঁও কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) কথা বলছি। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সিএসডির অভ্যন্তরে এখন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। রাহুর ভূমিকায় নেমেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের জন্য গুদামজাত চাল, আটা বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ঘটনাটি আজকের নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ইতোমধ্যেই দুর্নীতির সূক্ষ্ম কারুকাজে গুদাম খালি হয়েছে। বিপরীতে সম্পদের পাহাড় তৈরি করেছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।

এই সংঘবদ্ধ চক্রটিকে একবার শনাক্ত করা হয়েছিল ২০১৭ সালে। সে সময় যারা এই অনৈতিক কর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আজও তারাই যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি র‌্যাবের আইন কর্মকর্তার। তিনি বলেছেন, গত বছর র‌্যাবের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। কিন্তু সে অভিযোগে কোনো ফলাফল আসেনি। অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িতদের সবাই তাদের স্বপদে বহাল থেকে দুর্নীতিকে আরো ত্বরান্বিত করেছেন। সর্বশেষ গত শনি ও রোববার অভিযান চালিয়ে কালোবাজারে পাচার করা ২১৫ টন চাল ও আটা জব্দ করে র‌্যাব। অনুসন্ধানে জানা যায়, সিএসডির ম্যানেজার, প্রধান নিরাপত্তারক্ষী, গেট শাখার প্রধানসহ একটি চক্র এই জালিয়াতিতে জড়িত। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, এক বছর আগে র‌্যাবের দেওয়া সিএসডির দুর্নীতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনেও এদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এখানেই প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার পরও তারা কীভাবে একই পদে এত দিন কর্মরত ছিলেন! কে বা কারা তাদের এ পদে বহাল রাখতে সহযোগিতা করেছে এবং কোন স্বার্থে? এ প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। এ রকম অনেক প্রশ্নের জবাব এখনো মেলেনি। তবে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের চলমান দুর্নীতির প্রশ্নে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, সিএসডির ঘটনায় মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি করেছে। দুদকে মামলা হচ্ছে। এরই মধ্যে ম্যানেজারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একজন সৎ কর্মকর্তাকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এখানেও সেই একই প্রশ্ন। একজন অসৎ কর্মকর্তাকে একই অসৎ কর্ম করার জন্য সুযোগ তৈরি করল কে বা কারা? আমরা মনে করি, এ প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া কেবল জরুরিই নয়। এটি আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। যে দাবিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন কোনো নাগরিকই অবহেলা করতে পারে না। নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুবিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির সমাধা করবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

"