কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। শুধু এইটুকু জেনে রাখা ভালো, একবার কেউ এই নেশার জালে জড়িয়ে পড়লে সহজে আর বেরিয়ে আসতে পারে না। দিনে দিনে এই নীল দংশন পুরো সমাজকে বিপদগ্রস্ত করে তোলছে। নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে মানুষের স্বপ্ন-স্বাদকে। সেই উপলব্ধি থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে বারবার হুশিয়ারি ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশব্যাপী মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান শুরু করে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সমন্বিত অভিযানে দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি মাদকসেবী ও কারবারি গ্রেফতার হয়েছে। এ অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ২৪৪ জন ‘মাদককারবারি’। তারপরও মাদকের চোরাচালান থামেনি। এ ছাড়া এই বিশেষ অভিযানে গ্রেফতারের অধিকাংশই মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতা। অথচ দেশে মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে যে হোতারা দায়ী, তারা এখনো রয়ে গেছে সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাদক সরবরাহ সাময়িকভাবে কমলেও এটি নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তা ছাড়া খুচরা কারবারিদের পাশাপাশি মূলহোতাদের ধরতে না পারলে অভিযানের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে বলেও মনে করেন তারা। তাই মাদকের হোতাদের ধরতে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শুধু অভিযান চালিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে পুরোপুরি সফলতা অর্জন সম্ভব না বলে উল্লেখ করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসাও দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমাজের সবার মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরাও চাই, মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা সৃষ্টি হোক। যাতে দেশের প্রতিটি পরিবার মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে পারে। রক্ষা করতে পারে তাদের কোমলমতি সন্তানদের। যাদের হাতে একদিন সমর্পিত হবে এ দেশের ভবিষ্যৎ। রচিত হবে আগামীর রূপকল্প। নিজেদের মেধা-মননের সমন্বয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বর্ণশিখরে।

মনে রাখতে হবে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে যেকোনো মূল্যে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবে। আবার দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে, সে ব্যাপারেও লক্ষ রাখতে হবে। নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত মাদক চোরাকারবারের যে হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে, তাদেরও ধরার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে যার যার অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং সে লড়াইয়ে অবশ্যই জয়ী হতে হবে। তবে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা ও সক্রিয়তাও যে এই মরণ থাবা থেকে বাঁচার একটি অন্যতম পথ, সেটিও আমাদের মনে রাখতে হবে।

 

 

"