বাজেয়াপ্ত সম্পদের ব্যবহার

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার কথা শোনা গেছে। সময়ের পরিক্রমায় বহুবার শোনা গেছে এ ধরনের সংবাদ। বাজেয়াপ্ত হয়েছে সম্পদ। কিন্তু তারপর! সম্ভবত তার আর পর নেই। পরের খবর আমাদের কাছে নেই। আমরা জানি না, এ সম্পদ কোথায় গিয়ে জমা হয়? কোন খাতেই বা এর ব্যবহার! তবে সাধারণের ধারণা, দুর্নীতিলব্ধ অর্থ-সম্পদ জমা পড়ে রাষ্ট্রের অনুকূলে। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ও দুর্নীতিলব্ধ অর্থ-সম্পদও জব্দ হয়। জব্দ হয় বটে। কিন্তু এর কোনো ব্যবহার নেই। জব্দের পরপরই চলে যায় ডিপ ফ্রিজে। ভোগ করতে পারে না রাষ্ট্র। স্থাবর সম্পদের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসকের অধীনে। আর নগদ অর্থ অলস পড়ে থাকে ব্যাংকের লকারে। ফলে বিনষ্ট হয় কিংবা অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেয়াপ্ত সম্পদ।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে বটে, কিন্তু সংস্থাটি রায়ের একটি কাগজ ছাড়া কিছুই পায় না। রায়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠা, ভোগদখল, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও ভোগদখল নিশ্চিত হলো কিনা তা দেখভাল করারও কেউ থাকে না। অনেক সময় জব্দ করা সম্পদ বেহাত হয়ে যায়। এ বিষয়াদি সরকারের পক্ষে দেখভাল করার নিমিত্তে দুদক একটি ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে ভোগদখলের আওতায় আনার লক্ষ্যে গঠন করা হচ্ছে ‘অ্যাসেট রিকভারি ম্যানেজমেন্ট ইউনিট’।

এদিকে, দুদকের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে ১ হাজার ১৫৭টি দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯ মামলায় জেল-জরিমানা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ১ হাজার ৪৭ জন। তাদের কাছ থেকে দুর্নীতিলব্ধ ৭৮৩ কোটি টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য আদালতের রায়ের পর এসব অর্থের আইনগত বৈধ মালিক রাষ্ট্র হলেও তা কখনো সরকারের ট্রেজারিতে জমা হয়নি। দন্ডিত আসামিদের অ্যাকাউন্টে জব্দ অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসক নিয়োগ করা থাকলেও সেগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনার প্রশ্নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আমরা মনে করি, দুদকের এ উদ্যোগ সমস্যা সমাধানে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ বাস্তবায়ন দেখতে চায়। আমরা সেই শুভ দিনের

প্রতীক্ষায় থাকলাম।

 

 

"