লাগামহীনতায় গণপরিবহন

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

নাহ! সম্ভব নয়। বিড়ালের গলায় ঘণ্টা পরানো সম্ভব নয়। দেশটা যদি দুর্বল চিত্তের মানুষের না হতো; তাহলে হয়তো সম্ভব ছিল। অনেকের মতে, দেশটা এখন এই ধরনের মানুষের দেশে পরিণত হয়েছে। এদের আবার অনেক রকম শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। তবে আমাদের সমাজে অতিশয় দুর্বলের সংখ্যাই বেশি। এরা গরিষ্ঠ হয়েও নিজেদের অথবা সমাজের কোনো কাজে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এরা চিত্ত দুর্বলতায় আক্রান্ত। আর সে কারণে বিড়ালের গলায় এখনো ঘণ্টা বাঁধতে পারেনি। অবশ্য পরিকল্পনা কম হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কল্পনাই বাস্তবে রূপ পায়নি। এত কিছুর পরও গণপরিবহন এখনো বেপরোয়া। সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক আন্দোলনের পরও দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরেনি। গণপরিবহন চালকদের দৌরাত্ম্য একটুও কমেনি। ক্ষেত্রবিশেষে বেড়েছে বৈ কমার কোনো প্রতিচ্ছবি বাস্তবতার কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গড়ে প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে প্রায় দুই ডজন নিরীহ মানুষের প্রাণ। পত্রিকার হিসাবমতে, গত বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এ সময় আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, গত সাড়ে তিন বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২৫ হাজার ১২০ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে এ সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২০-এ। একই সময়ে আহত হয়েছে ৬২ হাজার ৪৮২ জন।

এদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনার ৯০ শতাংশই অধিক গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকের বেপরোয়া মনোভাবই দায়ী।

এ তথ্য কমবেশি সবারই জানা। বিষয়টির একটি ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টাও কম হয়নি। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখেনি। এখানে না বললেই নয় যে, যারা সমাধানের জন্য এগিয়েছিলেন; সম্ভবত তাদের মাঝে সদিচ্ছার অভাব ছিল। অথবা বলা যায়, বিষয়টি তাদের ক্ষমতার আওতায় থাকেনি। তারা বিপরীত শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছেন। একই সময় আরো একটি সংবাদ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে লাইসেন্সবিহীন গাড়িচালকের সংখ্যা ৩০ হাজার। গাড়ির ফিটনেস সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকার বিআরটিএ গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষাসহ সনদ হস্তান্তর করতে সময় নিয়েছে গাড়িপ্রতি গড়ে ৪২ সেকেন্ড। যাকে বিশেষজ্ঞরা অবাস্তব কর্মকা- বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর এই অবাস্তব কর্মকা-ই সড়ককে যমদূতে পরিণত করছে। ফলে সুস্থ মানুষ কাজ শেষে ঘরে ফিরছে লাশ হয়ে; যা কখনোই কারো কাম্য হতে পারে না।

আমরা মনে করি, এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য চাই একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। যে সিদ্ধান্তই এই মহাযজ্ঞ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে। আমরা সে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলাম।

 

"