নিবন্ধ

জলবায়ু : উন্নত বিশ্বের দায়

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

সাধন সরকার

সদ্য প্রয়াত বিশ্বখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক স্টিফেন হকিং সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের সময় ঘনিয়ে আসছে। অন্য কোনো বিশ্বই হতে পারে আমাদের যাওয়ার একমাত্র জায়গা। অন্য সৌরজগৎ খুঁজে বের করার এখনই সময়। কেননা ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মেরুদেশীয় বরফের গলন, বন উজাড় এবং প্রাণী প্রজাতির ধ্বংস উদ্বেগজনক।’ বাস্তবতাও সেই কথা বলছে! জলবায়ু পরিবর্তন এখন অলীক কোনো বিষয় নয়। বহু আগে থেকেই বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, পৃথিবীজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার উপকূলীয় দরিদ্র রাষ্ট্রগুলো। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। উন্নত দেশগুলোয় শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অতিমাত্রায় আরাম-আয়েশের ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্বন ডাই-অক্সাইড তথা গ্রিন হাউস গ্যাসের ব্যাপক নির্গমন ঘটছে। গ্রিন হাউস গ্যাস বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড তাপ ধরে রেখে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে জলবায়ুর অস্বাভাবিক আচরণ। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে গ্রিনল্যান্ডের বরফ অনেক আগেই গলতে শুরু করেছে। বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা বলছে, দক্ষিণ মেরুর অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের বরফও গলতে শুরু করেছে! সর্বোপরি পৃথিবীজুড়ে বিস্তীর্ণ বরফ খ-ের ক্ষয় হচ্ছে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির সঙ্গে যথেচ্ছাচারে ধীরে ধীরে প্রকৃতি রুষ্ট হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট ‘এল-নিনো’ নামে জলবায়ু চক্রের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়াসহ দক্ষিণ মেরুতে দেখা দিচ্ছে খরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বরফ ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। ফলে গাছপালা, প্রাণীর আবাসস্থল সর্বোপরি জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি হচ্ছে। হিমবাহের গলনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের ধারণাতীত উচ্চতা বৃদ্ধির আশষ্কায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে উপকূলীয় শহর ও দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে একবিংশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২ ফুটের বেশিও ছাড়িয়ে যেতে পারে। পৃথিবীর ব্যাপক জনসংখ্যাবহুল বৃহৎ বেশ কয়েকটি মেগাসিটি সমুদ্রতীরের কাছাকাছি অবস্থিত। তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয়, দ্বীপরাষ্ট্রসহ সব মিলিয়ে পৃথিবীর এক পঞ্চমাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সারা বিশ্বের যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ নামক পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তসরকার সংস্থা ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল ফর ক্লাইমেট চেঞ্জের’ (আইপিসিসি) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ ভাগ উপকূলীয় স্থলভূমি পানিতে তলিয়ে যাবে। ফলে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ জলবায়ু-উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে (প্রতি সাতজনে একজন)। এ ছাড়া উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে থাকলে আগামী কয়েক দশক পর চট্টগ্রাম বন্দরও সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে! ২০১৫ সালে প্যারিসে ‘কপ-২১’ নামে যে জলবায়ু চুক্তি হয়েছিল তা পরে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পরিণত হয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তি মানতে অস্বীকারসহ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। ‘প্যারিস চুক্তিতে’ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া এ বছরের শেষ নাগাত কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার শর্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো কার্বন নিঃসরণের হার তো কমছেই না, বরং বেড়েই চলেছে। গবেষকরা বলছেন, গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ যদি এখনই বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও এরই মধ্যে আমরা পরিবেশের এতটাই ক্ষতি করে ফেলেছি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আগামী কয়েক দশকে বেড়েই যাবে! পরিবেশবিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল ‘নেচার কমিউনিকেশন্সের’ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কার্বন ডাই-অক্সাইডের উদগীরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনতে যদি দেরি হয়, তাহলে ২০২০ সালের পর থেকে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য ২০ সেন্টিমিটার করে পানির উচ্চতা বাড়বে। এতে কোনো সন্দেহ নেই, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা রোধ করতে হলে উন্নত বিশ্বকে প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরো বাড়াতে হবে।

যাই হোক না কেন, পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়েই চলেছে। এ বছরের জানুয়ারিতে দুই মেরুতে আবহাওয়ার এলোমেলো আচরণে উত্তর গোলার্ধের দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছুদিন ধরে চলে ভারী তুষারপাত। সঙ্গে ব্যাপক ঝড়। মাত্রাতিরিক্ত শীতে জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। কানাডায় তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। একই সময়ে (জানুয়ারিতে) ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ায়। এ সময় দেখা দেয় তীব্র দাবদাহ। সিডনিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দাঁড়ায় প্রায় ৪৮ ডিগ্রি। আবার বাংলাদেশে এ বছরের জানুয়ারি মাসের শীতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র ও স্থলভাগের তাপমাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন। কার্বন নিঃসরণ নিয়ে উন্নত দেশগুলো যে যার স্বার্থের কথা বিবেচনা করে কথা বলছে। আবার উন্নয়নশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো তাদের দাবি-দাওয়া নিয়েও দ্বিধাবিভক্ত। ধনী দেশগুলোর জোট ‘জি-এইট’ (গ্রুপ অব এইট) ভুক্ত দেশগুলো (যদিও বর্তমান সদস্য-৭) বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৫০ ভাগের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে থেকে। অথচ তাদের লোকসংখ্যা বিশ্বের মাত্র ১৮ ভাগ। কিন্তু এসব দেশ কার্বন নিঃসরণ করে থাকে প্রায় ৫০ ভাগ। আবার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ‘গ্রুপ-৭৭’ (বর্তমান সদস্য-১৩৪)-এর দেশগুলো বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৬৮ ভাগ। এই উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশ্ব অর্থনীতির মাত্র ২২ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। দেশের অনুপাতে কার্বন নিঃসরণও কম করে (সব দেশ মিলে প্রায় ৪০ ভাগ) থাকে। আবার পৃথিবীর সাগরপাড়ের ও বনাঞ্চলভুক্ত দেশগুলো বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে প্রভাব একেবারে কম, জনসংখ্যাও কম। এসব দেশ কার্বন নিঃসরণও খুবই কম করে থাকে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) এক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বায়ুম-লে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস মেশার হার ছিল ৪০৩ দশমিক ৩ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন), যা অন্য সব বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিটি নতুন বছর আসছে আর পুরোনো বছরের কার্বন নিঃসরণের হারকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশ ও গোষ্ঠীগুলো কার্বন নিঃসরণের মূল হোতা। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ যথাক্রমে কার্বন নিঃসরণ করে থাকে ২১, ২০ ও ১৮ ভাগ। বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ একেবারে কম, বছরে মাত্র ৭৭ টন (প্রায় ০.১৭ ভাগ)। ধীরে ধীরে বাস অযোগ্য হয়ে পড়ছে পৃথিবী। কিন্তু কেউ-ই দায় নিচ্ছে না। বিপুল জনসংখ্যাবহুল চীন ও ভারতকে এখনই কার্বন নিঃসরণে ব্যাপক জোর দেওয়া উচিত। অন্যতম বৃহৎ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে কার্বন নিঃসরণে সবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। কেননা ১৯৯৭ সালে কিয়োর্টা সম্মেলনে ১৬০টি দেশ অংশ নিয়ে কার্বন নিঃসরণকারী দেশ ও গোষ্ঠীগুলো কার্বন নিঃসরণে অঙ্গীকার ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করার ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি! ২০১৫ সালে ‘প্যারিস চুক্তি’ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের একেক সময় একেক কথা বিশ্বকে হতাশ করেছে। ফলে কার্বন নিঃসরণে বাকি দেশগুলোর (বিশেষ করে চীন, ভারত, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ অন্যান্য দেশ) অঙ্গীকার এবং চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে থাকার অঙ্গীকার করেছে। পুরো বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বাড়ছে, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে, মাটির লবণাক্ততা বেড়ে কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে, গাছপালা ও বিভিন্ন প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে চলে যাচ্ছে, সর্বোপরি জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়ছে ইত্যাদি। সমগ্র পৃথিবীব্যাপী এমনিতেই প্রকৃতি-পরিবেশবিধ্বংসী কার্যকলাপ ও বিভিন্ন দূষণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস আরো ত্বরান্বিত হচ্ছে। উপকূলের গাছপালা ও প্রাণ-প্রতিবেশের ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে।

জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা জার্মান ওয়াচের ‘বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকিসূচক-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় (১০তম) যুক্তরাষ্ট্রের নাম উঠে এসেছে। তথ্যমতে, বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। উপকূলের জমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। ফসল উৎপাদন কম হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষজন দীর্ঘদিনের পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং হচ্ছে, তা আজ বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত। বিশ্বব্যাংক ও এডিপিসহ বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশসহ উপকূলীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সে ব্যাপারে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো কোনোভাবেই দায়ী নয়। কার্বন নিঃসরণ তথা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করা না গেলে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল ও উপকূলীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোকে এক কাতারে এসে প্রতিবাদ করার, রুখে দাঁড়ানোর, ক্ষতিপূরণ চাওয়ার এখনই সময়। প্যারিস সম্মেলনসহ অন্যান্য সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। প্রযুক্তি সহায়তা নেই বললেই চলে! উন্নত বিভিন্ন দেশ নিজেদের শিল্পায়ন করবে, উন্নয়ন করবে, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করবে ভালো কথা। তবে সেটা কোনোভাবেই অন্য দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তাই কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে এক কাতারে এসে দায় নিয়ে প্যারিস চুক্তির শর্ত মেনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্বন নিঃসরণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নিজেদের মতো করে ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিটা মূলত সবার। বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বকে কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তির (সৌরশক্তি, পানিশক্তি, বায়ুশক্তি) দিকে প্রতিটি দেশকে অগ্রসর হতে হবে। সবুজায়ন বাড়াতে হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

sadonsarker2005@gmail.com

"