সমস্যা সমাধানে চাই জরুরি উদ্যোগ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মানবজীবনে সমস্যা কিংবা যেকোনো সংকট একটি প্রাত্যহিক অনুষঙ্গ। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র যেকোনো সময়ে যেকোনো সংকটে পড়তে পারে। সেটা প্রাকৃতিক হোক বা মানবসৃষ্ট। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী সৃষ্ট এক গভীর সংকটের মোকাবিলা করছে। যে সংকটের নাম ‘রোহিঙ্গা’। মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে; যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬০ হাজার শিশু ও বাল্যবিবাহের মতো অনাকাক্সিক্ষত সব ঘটনা; যা রোহিঙ্গা শিবিরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

রোহিঙ্গারা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাল্যবিবাহকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের অভিভাবকরাও তাই মনে করছেন। তবে সেখানে কর্মরত উন্নয়নকর্মীদের ধারণা, মূলত সামাজিক নিরাপত্তার জন্যই রোহিঙ্গা মেয়েদের বাল্যবিবাহের শিকার হতে হচ্ছে। বাংলাদেশে আসার পরও থেকে সেটিই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। এদিকে অভাব আর অনিশ্চয়তায় ভরা রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার আসলে কতটা-এ নিয়ে কোনো সংস্থাই সেভাবে তথ্য দিতে পারেনি। তবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি বলে মনে করছেন উন্নয়নকর্মীরা। কক্সবাজারে ইউনিসেফের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ, কিন্তু ক্যাম্পে যে রকম অনানুষ্ঠানিকভাবে বিয়েটা হয়, সেখানে এমন আইন প্রয়োগ করা খুবই কঠিন। তবে আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা শিবিরে বাল্যবিবাহ রোধ করতে হলে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা প্রয়োজন। যাতে করে তারা বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো উপলব্ধি করতে পারেন। এ জন্য স্থানীয় মসজিদে বয়ান এবং ক্যাম্পগুলোয় নারীদের সঙ্গেও প্রাসঙ্গিক আলোচনার গুরুত্ব রয়েছে। ক্যাম্পগুলোর কমিউনিটি সেন্টারে এসব নিয়ে নাটিকা এবং গানবাজনা হচ্ছে। তবে উন্নয়নকর্মীদের ধারণা, অবস্থার পরিবর্তন হতে সময়ও একটা বড় ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির কোনো সুযোগ নেই। আলোচনার মাধ্যমেই তা রোধ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে প্রশ্ন হলো-এ অবস্থা কত দিন চলবে? বাংলাদেশেরও সীমাবদ্ধতা আছে। অধিকন্তু আগের আশ্রিত রোহিঙ্গাদেরও একটি বিশাল অংশ একই রকম সমস্যা তৈরি করছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মালয়েশিয়ায় চাকরি করছে। তাদের কাজকর্মও তেমন প্রশংসনীয় নয়। কিন্তু দায় পড়ছে বাঙালিদের ওপর। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ১৯৭৮ সাল থেকে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত রয়েছে। মাদক ব্যবসার অন্যতম রুট হচ্ছে টেকনাফ সীমান্ত। এ ব্যবসার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতা ব্যাপক। জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। শুধু মানবতার প্রশ্ন দিয়ে আমরা আমাদের নিজের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন হতে দিতে পারি না।

সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে জোরদার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এ মানবিক সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে নিজ দেশের অধিবাসীদের ফেরত নিতে। আর রোহিঙ্গা শিবিরে যে আশঙ্কাজনক হারে বাল্যবিবাহের মতো অপরাধ বাড়ছে, তা রোধ করারও চেষ্টা করতে হবে। নয়তো এই সমস্যা একদিন বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে।

"