চামড়ার নেপথ্যেও সিন্ডিকেট

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

এ দেশে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ সিন্ডিকেট। সম্ভবত করপোরেট শব্দটির সঙ্গে এর একটি সিমিলি আছে। করপোরেট বলতে বৃহৎ আর সিন্ডিকেট বলতে ক্ষুদ্রতর পরিসরকে বোঝানো হয়ে থাকে। তবে এই নির্দিষ্ট শব্দটিকে কখনোই ইতিবাচক ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে দেখা যায়নি। সবসময় নেতিবাচক ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে দেখেছি। সম্ভবত নেতিবাচক কিছুকে বোঝানোর জন্যই এর জন্ম। সম্প্রতি নিরীহ চতুষ্পদী জন্তু গরুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শব্দটি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। শব্দটি চামড়ার বাজারে ধস নামিয়ে ছেড়েছে। মানুষ মানবজন্ম সার্থক করতে না পারলেও সিন্ডিকেট শব্দটি তার জন্মকে সার্থক করতে সমর্থ হয়েছে।

সিন্ডিকেট! অর্থাৎ অসৎ উদ্দেশ্যে সমাজের অল্পকিছু লোকের গোপন আঁতাত। সম্প্রতি যেমন দেশে চামড়াশিল্পে ধসের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কোরবানির ঈদে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে কাক্সিক্ষত সাড়া না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা। আড়তদারদের মতে, গত কয়েক বছরে কাঁচা চামড়ার দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এবারে সিন্ডিকেট বেশ আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে মাঠে নেমেছে। তারা কোরবানির চামড়া কেনার লক্ষ্যে আড়তদারদের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখেনি। আর সে কারণেই পড়ে গেছে চামড়ার দাম। মাঠ পর্যায় থেকে কেনা চামড়া আড়তদারের কাছে বিক্রি করতে এসে মাথায় হাত পড়েছে মৌসুমি বিক্রেতাদের।

এ ক্ষেত্রে বিশ্লেষকেরা সার্বিক ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন। সরকারের বেধে দেওয়া দর, এই খাতে অর্থ সরবরাহ, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং তাদের অনৈতিক সিদ্ধান্ত পুরো বিষয়টিকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। বাজারের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চামড়ার একটি বড় অংশ সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে চলে যাবার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কিংবা বলা যায়, এ দেশে চামড়া শিল্প ধ্বংসের অংশ হিসেবে একটি গোপন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুন না কেন বাস্তবতা বলছে চামড়াশিল্পের ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো বলার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যা একটি অশনি সংকেত হিসাবে দেখা দিতে পারে। আমরা মনে করি, এ শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকারকেই সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে। সিন্ডিকেট সদস্যদের প্রতি সহানুভূতির হাত না বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ সংরক্ষণের দিকে অগ্রসর হওয়াটাই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করা এবং এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

"