কাজে ফেরার পালা

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

উৎসব শেষ। কিছুটা হলেও অবসন্ন দেহ ও মন। দুদিন আগেও কী ভীষণ উৎফুল্লতায় নিমগ্ন ছিল আমাদের মন। নাড়ির টানে বাড়ির টানে চলেছি গ্রামে। গ্রামে নয়, ‘শেকড়ে’। ফী বছরই এইসব মানুষকে যেতে হয়। গ্রামীণ জীবনে যেন একটা ঢেউ জাগে। জলের ভেতর থেকে জাগিয়ে তোলা এক ডুবসাঁতারের ঢেউ। সে ঢেউ এখন আর নেই। মেলা শেষে যেরকম থাকে না। অনেকটা সেরকম। গ্রামীণ সমাজ ও প্রকৃতির চোখে যেন একরাশ মেঘ। যদিও আকাশে কোনো মেঘ নেই। তবুও এখানে মেঘ। বিষন্নতার চাদরে ঢাকা মানুষের মন। ফিরতে হবে কর্মস্থলে। আবারও শুরু হবে ছুটোছুটি। বাড়বে ব্যস্ততা। যে যার মতো তৈরি হয়ে হুইসেলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। কখন ছাড়বে ট্রেন, বাস, লঞ্চ অথবা বিমান।

তবে বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই। প্রতিবারের মতো এই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে এবং হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই। বিড়ম্বনার সংজ্ঞা কমবেশি আমরা সবাই জানি। তবে এর প্রকারভেদ জানতে হলে অন্তত একবার এ সময় শেকড়ের টানে হোক বা না হোক দেশের বাড়ি বা গ্রামের বাড়িতে চলুন। বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই জানতে পারবেন বিড়ম্বনার গতি ও প্রকৃতি। একটির কথা বলা যাক। সড়ক, নদী ও আকাশপথে বাস ও বিমানের ভাড়া দ্বিগুণ। ক্ষেত্রবিশেষ তিনগুণও নেওয়া হয়েছে। এ যেন অনেকটা ‘চারপাশে অথই জলের সমাহার, কিন্তু খাবার জন্য এক ফোঁটাও বরাদ্দ নেই।’

আমাদের চারপাশে আইন আছে। আইন কার্যকর করার মানুষও আছেন। শুধু নেই সেই আইন কার্যকর করার কোনো ভূমিকা। স্বাধীনতার এতগুলো বছরেও এলো না কোনো পরিবর্তন। লুটেরা পুঁজির দৌরাত্ম্য এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ। এ বৈশিষ্ট্যের শেষ কোথায়, তা-ও আমরা জানি না। তবে এটা জানি যে, লুটেরা পুঁজির দৌরাত্ম্য ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দীর্ঘায়িত হলে দুর্ভোগও দীর্ঘায়িত হবে। আর সেই দুর্ভোগ কাঁদে নিয়েই চলতে হবে আমাদের। আমরাও চলেছি এবং চলব। মুক্তবাজার অর্থনীতি আমাদের এভাবে চলতে শিখিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উচ্ছ্বসিত মেরুদন্ডের শক্তি যেন আজ আর নেই। অনেক আগেই তা আমরা হারিয়েছি। লুটেরা পুঁজির অনৈতিকতা আমাদের শরীরে প্রবেশ করে রক্তকে করেছে কলুষিত। সেই কলুষিত রক্তই আজ ছড়িয়ে পড়েছে সমাজের অলিতে-গলিতে। তবুও বলব, আমরা আছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে তাকে আবার ফিরে পাবার প্রত্যাশায় হাজারো বিড়ম্বনার প্রাচীর ডিঙিয়ে ফিরে যাব শেকড়ের আকর্ষণে। আর বিড়ম্বনার শেষ দেখার অপেক্ষায় বারবার ফিরে যাব এবং ফিরে আসব। আর শেষ পরিণতি না দেখা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকব।

"