জাতীয় গ্রিডে এলএনজি

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পূরণে আরো একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এলএনজিবাহী জাহাজ (কমিশনিং কার্গো) দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্রসীমায়। সেখান থেকে সঞ্চালন-বিতরণ পাইপলাইনে যুক্ত হয়ে গ্যাস পৌঁছে যাচ্ছে গ্রাহকের কাছে। ইতোমধ্যেই গ্যাস বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেওয়া হচ্ছে সাড়ে সাত কোটি ঘনফুট। প্রকাশিত তথ্য মতে, এলএনজি টার্মিনালটি (এফএস আরইউ) দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম। যার প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত শনিবার। চুক্তির শর্তানুযায়ী ব্যবহার করা হোক বা নাই হোক, পাঁচ বছরের মধ্যে গ্রাহকদের পুরো দামটাই শোধ করতে হবে এবং যার পরিমাণ দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪১০ কোটি ঘনফুট। প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ২৭০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ সরবরাহে দৈনিক ১৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। সুতরাং, আমদানি করা গ্যাসের তিল পরিমাণও অব্যবহৃত পড়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। দাম পরিশোধের ব্যাপারেও কোনো দুশ্চিন্তা থাকার কথা নয়। এদিকে গ্যাসের অভাবে দেশের অনেক শিল্প-কারখানা পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছে না। সারা দেশে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগের অনুমতি দিয়েও সরবরাহে ঘাটতি থাকার কারণে গ্যাস দিতে পারছে না সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সংকট সমাধানে এ গ্যাস দেশবাসী ও শিল্প-কারখানা মালিকদের জন্য একটি ভালো বার্তা বহন করে এনেছে এবং একই সঙ্গে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আরো একধাপ এগিয়ে গেল।

আমরা মনে করি, জাতীয় গ্রিডে এই গ্যাসের সংযোজন দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত, যা শিল্প-কারখানার চাকার গতিকে বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে একটি বিষয়ে আমাদের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের ব্যবস্থাপনায় যেন কোনো ধরনের গাফিলতি আমাদের এ প্রকল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে। কোনোক্রমেই কোনো ধরনের সিস্টেম লসের গহ্বরে আটকে না যাই। তাহলেই সম্ভব হবে। সম্ভব হবে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই গ্যাস চাহিদাকে পূরণ করে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে। আমরা আশা করব, বর্তমান সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে আগামীর পথে এগিয়ে যাবেন। তাদের কাছে দেশবাসীর এটাই প্রত্যাশা এবং সরকার তা পূরণে সক্ষম হবে।

"