আলো বনাম অন্ধকার

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

অন্ধকার সরাতে হলে আলোর প্রয়োজন। এর আর কোনো বিকল্প আছে বলে আমাদের জানা নেই। আলোই হচ্ছে একমাত্র অ্যান্টিবায়োটিক। দুটি নিয়মে পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এক. প্রাকৃতিক কারণে। দুই. মানুষের কর্মকা-ে। প্রাকৃতিক নিয়মে এই অন্ধকারের জন্য পৃথিবীর সব জীব ও প্রাণী অধীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। তাকে সাদর অভ্যর্থনা দিয়ে আলিঙ্গনে অন্দর মহলেও নিয়ে যেতে কারো কোনো দ্বিধা থাকে না। ইতিবাচক ফলাফল ছাড়া সে কখনো কোনো নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে মানব অথবা প্রকৃতির কাছে আসেনি। সব সময়ের জন্য সে মানবসমাজ ও প্রকৃতির কল্যাণেই কাজ করেছে। আর মানবসৃষ্ট অন্ধকার!

প্রাকৃতিক অন্ধকারের একটা রং আছে। কিন্তু মানবসৃষ্ট অন্ধকারের কোনো নির্দিষ্ট রং নেই। নাগাসাকি-হিরোশিমায় মানুষ আণবিক বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে পৃথিবীকে যে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছিল, তার রং কালো ছিল না। তবু পৃথিবী ছিল অন্ধকারে নিমজ্জিত। ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্কিত ঘটনা। আলোর ভেতরে বসে মানুষ যেভাবে অন্ধকারের চাষাবাদ করছে, তা কখনোই মানব এবং প্রকৃতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনেনি। কেবলই দাঁড় করিয়েছে ধ্বংসের মুখোমুখি। অন্ধকারের চাষাবাদে এ রকম একটি ফসলের নাম ‘ইয়াবা’। আমাদের দেশে একসময় যা মহামারী রূপে আবির্ভূত হয়েছিল। এখন তা মহামারীর আকার থেকে সরে আসতে পারলেও সাধারণ হয়ে উঠতে পারেনি। তবে যেকোনো সময় তা মাথাচাড়া দিয়ে আবার মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। মিডিয়ার পাতায় যেন সেই সংকেত ধ্বনিত হচ্ছে। প্রতিদিনের পাতা উল্টালেই তার নমুনাও পাওয়া যাচ্ছে।

মিডিয়ার ভাষ্য মতে, চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের মধ্যেও মাদকের চোরাচালান পৌঁছে যাচ্ছে দেশের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, ব্যারিকেড আর চেকপোস্ট কোনো কিছুই যেন এর গতিকে থামানোর ক্ষমতা রাখছে না। মিডিয়ার ভাষ্যাণুযায়ী এটাই বাস্তবতা। তথ্য মতে, মিয়ানমারের ৩৭ কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা প্রতিনিয়ত প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। গত তিন মাসে দেশব্যাপী র‌্যাব, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাদকবিরোধী কঠোর অভিযানে বিপুলসংখ্যক গ্রেফতার ও দুই শতাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারি নিহত হওয়ার পরও থেমে নেই মাদকচক্রের অপতৎপরতা। সম্ভবত থামবেও না। অন্ধকারে নিমজ্জিত একটি মানববৃক্ষের ডালপালা ছেঁটে ছোট করা হলেও সম্ভবত তার গোড়ায় পানি ঢালার কাজটি অব্যাহত রয়েছে। এ কাজ বন্ধ না করা পর্যন্ত বৃক্ষটি জীবিত থাকবে এবং বিকশিত হবে। এটাই স্বাভাবিক। আমরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মানবসৃষ্ট অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে চাই না। অন্ধকারে নিমজ্জিত মানববৃক্ষটিকে শেকড়সমেত উৎপাটন করতে আগ্রহী। আশা করব যারা এ কাজে নিয়োজিত আছেন, তারা সততার সঙ্গে শেকড়সমেত উৎপাটনের কাজে এগিয়ে আসবেন।

 

 

"