মোবাইলের নতুন কলরেট

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

প্রতিটি দিনের সঙ্গে পরিবর্তনের একটি যোগাযোগ আছে। যে যোগাযোগের ফলে ফল কখনো ইতিবাচক অথবা কখনো কখনো নেতিবাচক হয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে যোগাযোগের ভূমিকা সব সময়ই নির্মোহ। নির্মোহ থাকে না কেবল লাভ-লোকসানের সঙ্গে ব্যক্তি, সমষ্টি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। যেমন- মোবাইলে পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তনটা আসলে মোবাইলে নয়, কলরেটে।

দেশে মোবাইল ফোনের নতুন কলরেট নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন কলরেট অনুযায়ী এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে (অফনেটে) বা নিজস্ব অপারেটর (অননেট) ব্যবস্থা তুলে নিয়ে যেকোনো অপারেটরে কথা বলার খরচ সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ২ টাকা প্রতি মিনিট। অর্থাৎ দেশের মোবাইল কলরেটে এখন থেকে আর অফনেট-অননেট থাকল না। রেটের ক্ষেত্রে একটি সুষম ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হলো। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ভোক্তাদের স্বাধীনতা কিছুটা হলেও শৃঙ্খলামুক্ত হলো। এ দেশের সমাজব্যবস্থায় কোনো পর্যায়ে ক্রেতাপক্ষের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়নি। তাদের সব সময়ই বিক্রেতাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে মেনে নিয়েই চলতে হয়েছে এবং হচ্ছে। কোনো সরকারই ক্রেতাপক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করেছে, এমন উপমা খুবই বিরল।

নতুন কলরেট নিয়ে বিটিআরসি, অপারেটর ও গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ক্ষেত্রে ভালো-মন্দের দুটো দিকই উল্লেখ করা যেতে পারে। অননেটের কলরেট ২৫ পয়সা থেকে ৪৫ পয়সা হওয়ায় ভোক্তাপক্ষের একটি অংশের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি অফনেট কলের ভোক্তাদের ক্ষেত্রে মিনিটপ্রতি খরচ কমেছে ৫০ পয়সা। নতুন কলরেটের কারণে কলরেট কমল প্রায় ৬৫ শতাংশ। অননেট ও অফনেটের মধ্যে দামের যে বৈষম্য ছিল তা আর থাকল না। নেটওয়ার্ক পছন্দে তাদের অবাধ স্বাধীনতা তৈরি হলো। এ ক্ষেত্রে না বললেই নয় যে, বাজারের প্রতিটি ক্ষেত্রে এ বৈষম্যের যেন কোনো শেষ নেই। একই পণ্য একই বাজারের এপ্রান্তে এক দাম, অন্যপ্রান্তে কম অথবা বেশি। বিক্রেতা তার ইচ্ছামতো মূল্য বাড়িয়ে ক্রেতাপক্ষকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারেন এবং তা করছেন। সম্ভবত এটাই সমাজের একটি অলিখিত আইন। মেরামতের চেষ্টা কখনো ছিল না; এখনো নেই। হীরক রাজার দেশের মতো এ রকম আইনের মধ্য দিয়েই চলছি আমরা। তবে মোবাইলের কলরেটের মতো দেশের যাবতীয় পণ্যকে সর্বত্র এ রকম একটি সুষম রেটের আওতায় আনা গেলে ভোক্তাপক্ষ বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারা।

আমরা মনে করি, পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিটি পণ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারিত থাকাটা খুবই জরুরি। ভোক্তাপক্ষ অনর্থক এবং অহেতুক তেড়ে আসা ঝামেলার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। রাজধানীতে রাস্তায় নামার পরপরই মানুষকে এ ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়। রিকশা বা বাস অথবা বেশি, যেটাতেই উঠবেন- একই অবস্থা। ভাড়ার যেন কোনো মা-বাপ নেই। যার কাছ থেকে যেভাবে যতটা নেওয়া যায়। এভাবেই চলছে। এ রকম অসংখ্য ঘটনার মাঝে শিবরাতের সলতে হয়ে জ্বলে উঠল মোবাইলের কলরেট। ভোক্তা অথবা ক্রেতাপক্ষের পক্ষ থেকে তোমাকে ধন্যবাদ।

"