শুভ হোক ঈদযাত্রা

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

এক সপ্তাহও বাকি নেই। ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদে বাড়িফেরা মানুষকে একনজর দেখার অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছেন স্বজনরা। আর যারা ফিরছেন তারা অপেক্ষায় আছেন, কখন তারা শৈশব অথবা কৈশোরের দরোজায় গিয়ে টোকা দিয়ে বলবেন-‘মা...’।

দরোজাটা খুলে যাবে। মা তার কাঁপা কাঁপা হাতটা শরীরে বুলিয়ে বলবেন, ‘পথে কষ্ট হয়নিকো বাবা...!’

এরপর স্বজনদের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া। এই হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে লুকিয়ে আছে আমার শৈশব; আমার কৈশোর। আমি যেন আমার মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে শৈশব আর কৈশোরকে খুঁজতে থাকি। মাও খোঁজেন তার হারিয়ে অতীতকে।

অগ্রিম টিকিটে গতকাল থেকে সড়কপথে শুরু হচ্ছে ঈদে বাড়ি ফেরা। তবে মূল স্রোত নামবে শেষ কর্মদিবসে। শুরু হবে মূল ঈদযাত্রা। প্রতিবারের ঈদযাত্রাকে নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে সরকারের থাকে বিশেষ ব্যবস্থাপনা। তারপরও ঈদযাত্রা নিয়ে সড়কপথে বাড়িফেরা মানুষরা থাকেন শঙ্কিত। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়কে এবার ফিটনেসবিহীন গাড়িকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তদারকিতেও থাকছে বিশেষ নজরদারি। ঈদযাত্রাকে নির্বিঘœ করতে প্রস্তুত রেল কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রতিদিন ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সারা দেশে প্রতিদিন আড়াই লাখ যাত্রী চলাচল করলেও ঈদের সময় তা তিন লাখ অতিক্রম করে। নৌপথেও চাপ কম নয়। যাত্রীর চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশেষ সার্ভিসের। নৌপথে নামানো হয়েছে অতিরিক্ত ছয়টি স্টিমার ও ১৮টি লঞ্চ। তারপরও বলতে হয়, পথে কিছু দুর্ভোগ থাকবেই। এই দুর্ভোগ কমিয়ে আনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালন করাই হোক এ ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আমরা আশা করতেই পারি এ কাজটি তারা তাদের সর্বোচ্চ সততা দিয়েই পালন করবেন। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, বিশেষ করে সড়ক ও নৌপথের যানচালকরা তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন। এবার যেন কোনোভাবেই কোনো মায়ের কোল খালি না হয়, কোনো শিশুকে যেন তার মাকে হারাতে না হয়Ñবিষয়টি মাথায় রেখে আমরা বাড়ির পথে পা বাড়াই। যাত্রা শুভ হোক। এ প্রত্যাশা রেখেই বলব, ‘খোশ আমদেদ ঈদুল আজহা’।

"