আজ জাতীয় শোক দিবস

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। কাঁদছে আকাশ, কাঁদছে বাতাস। শোকাহত মৃত্তিকা। শোকের সমুদ্রে ভাসছে মানবতা। পৃথিবীকে প্রশ্ন করেছি, বিষণœতার ছায়ায় নিজেকে ঢেকেছো কেন! পৃথিবী বলেছে, জলধিকে জিজ্ঞাসা করো। সাগরকে বলেছি, জবাব দাও। জলধি বলেছে, আকাশে তাকাও। আমি আকাশে তাকালাম। মেঘের মিছিল ছাড়া আর কিছুই দেখিনি আমি। আবার ফিরেছি সেই সাগরের কাছে। সাগর বলেছে, তাকাও- সূর্যের দিকে। সূর্যকে দেখলাম। শোকের পতাকা হাতে কেবলই দাঁড়িয়ে আছে কোনো এক নক্ষত্রের পাশে।

আমি এক নক্ষত্রের কথা বলছি। যে নক্ষত্র নিজের সঞ্চিত সবটুকু আলো দিয়ে উদ্ভাসিত করেছিল একটি দেশ। জাতিকে দিয়েছিল একটি পতাকা, নির্দিষ্ট ভূখ- ও স্বাধীনতা। আমরা জানি, বিশ্বব্রহ্মা-ে সময়ই হচ্ছে সেরা ঘাতক। এ সময়কে বেঁধে রাখার ক্ষমতা আমাদের নেই। অথবা বলা যায়, ভবিতব্য আমাদের জানার মধ্যে থাকে না। যে রকম আমরা জানতে পারিনি ১৫ আগস্ট কী হতে যাচ্ছে।

১৫ আগস্ট। পৃথিবীর দিনপঞ্জিতে এক কলঙ্কিত দিন। যেদিনে আমরা এক নক্ষত্রকে হারিয়েছি। হারিয়েছি এক নক্ষত্র পরিবারকে। ইতিহাসে এ যেন আরো একটি পলাশী ট্র্যাজেডি। পরাধীনতার গ্লানি মুছতে না মুছতেই দেশ যেন আরো একবার পরাধীনতার চাদরে ঢাকা পড়ল। স্তম্ভিত বাংলাদেশ পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে শোকার্ত পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে রইল। আর পৃথিবী বলল, ক্ষমাহীন পাপের মধ্যে তোমাদের বসবাস।

সত্যিই কি তাই! হয়তোবা হতে পারে, হয়তোবা না। তবে এ কথা সত্য যে, লুটেরা পুঁজির চরিত্রের সঙ্গে আমাদের চরিত্র যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আর সে কারণেই নক্ষত্র হননকালে আমরা জ্বলে উঠতে পারিনি। আত্মরক্ষার জন্য নিজেকে গুটিয়ে রেখেছি। অনেক দিন সময় লেগেছে অন্ধকার পরিষ্কার করতে। আর এ পরিচ্ছন্নতার কাজে আবারও প্রয়োজন হয়েছে নক্ষত্র পরিবারের সদস্যকে। যার হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ ইমার্জিং টাইগার। অর্থনীতির চাকায় লেগেছে প্রযুক্তির সেই গতি, যে গতি বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশে।

আমরা মনে করি, যিনি আজ এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি সেই নক্ষত্র পরিবারের সদস্য বলেই তা সম্ভব হয়েছে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার ক্ষমতা যার কাছে গচ্ছিত আছে, তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। আমরা বিশ্বাস করি, অবশিষ্ট যেটুকু অন্ধকার আছে; তাও আর বেশি দিন থাকবে না। অচিরেই কোনো এক সুপ্রভাতে দেখা হবে সেই নক্ষত্রের সঙ্গে। তিনি বলবেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’। আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদ গ্রহণে সক্ষম হব।

"