সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সড়কে এখনো চলছে প্রাণহানির ঘটনা। কোনোভাবেই তা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। গত রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের হতাহতের খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। অথচ মাত্র কিছুদিন আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে দেশ তোলপাড় হয়েছিল। সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে তারা রাজপথে নেমে আসে ও সরকারের কাছে ৯ দফা দাবি তোলে। তাদের এ দাবিকে সাধারণ মানুুষের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী ও নেতারাও যৌক্তিক বলে অভিহিত করেছিলেন এবং তারা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব সড়কের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই।

দেশে অপ্রতিরোধ্য সড়ক দুর্ঘটনায় যেমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, তেমনি অনেক পরিবার পথে বসছে। অনেক পরিবারের আশার আলো নিভে গেছে যানবাহনের চাকায়। গত রোববার রংপুরে মিনিবাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছে মো. জিয়ন নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্র। স্কুল ছুটির পর বাইসাইকেল নিয়ে ছাত্রাবাসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল সে। কিন্তু ফেরা হয়নি তার। দ্রুতগামী একটি মিনিবাসের চাপায় পথেই প্রাণ হারিয়েছে জিয়ন। একই দিন রাজধানীর পল্টনে বাসের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সাভার, খুলনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে প্রাণ গেছে দুজনের, আহত হয়েছে অনেক এবং তা প্রতিদিনই ঘটছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দাবিতে ছাত্রদের ৯ দফা দাবি উত্থাপনেরও কয়েক বছর আগে হাইকোর্ট পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কিংবা আদৌ এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি নাÑতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কে শৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। এমন কি বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটিগুলো যেসব সুপারিশ করেছে, তাও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

সরকার ঘোষিত হিসাব মতে, আগামী ২২ আগস্ট ঈদুল আজহা। লাখ লাখ মানুষ তখন ঢাকা ছাড়বে। যাবে আত্মীয়স্বজনের সান্নিধ্যে। তখন সড়ক-মহাসড়কে পড়বে বাড়তি যানবাহনের চাপ। প্রায় প্রতি ঈদেই ঘটে নানা দুর্ঘটনা। কিন্তু আমরা চাই না ঈদের মতো আনন্দ-খুশির মুহূর্তে কোনো কোনো পরিবারে বিষাদের ছায়া পড়–ক। তাই

এখন থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে যে যাই বলুক, আমরা আশা করব শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নাগরিক সচেতনতা জাগ্রত হয়েছে, তা কোনোভাবেই যেন লুপ্ত না হয়। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি অন্যদের দায়িত্বও কম নয়। প্রত্যেকে যদি নিজেদের দায়িত্বের প্রতি সচেতন থাকে, তাহলে সব বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করে আমরা একটি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। এতে রাজপথ যেমন শঙ্কামুক্ত হবে, তেমনি মানুষের জীবনযাত্রাও

হবে নির্বিঘ্ন।

"