ঘুরে ফিরে জোটের রাজনীতি

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সময়টা এভাবেই যায়। কখন যে চলে যায় তা টের পাওয়া যায় না। দেখতে দেখতে প্রায় পাঁচ-পাঁচটি বছর চলে গেল। সংবাদপত্র মাধ্যমে জানা গেল বাকি মাত্র সাড়ে চার মাস। এই সাড়ে চার মাস পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আবারও আলোচনায় সেই জোট। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দলের বাইরে নতুন করে জোট গঠনের প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও গতি পেয়েছে। সবারই লক্ষ্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জয়লাভ করা। এখানে সবার লক্ষ্যই যে পূরণ হয় বা হয়ে থাকে- তেমনটাও নয়। তবে একটি নির্বাচন সাধারণ মানুষের নান্দনিক আশা পূরণে শতভাগ সফল হতে পারে। আবার সাধারণ মানুষের সেই চাওয়াটাও হিমালয় পর্বতের ন্যায় বিশাল কিছু নয়। ছোট্ট এক টুকরো নুড়ি-পাথরের মতো। নির্বাচনে তারা শুধু নীরবে-নিভৃতে ভোট দিতে চায়, ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে চায়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক জোটেরা সেই ভোটের ফলকে নিজের বা দলের পক্ষে নেয়ার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমিতে চাষাবাদ করে থাকেন। আর রাজনীতির ময়দানে সেই চাষাবাদ প্রক্রিয়ার নাম যৌথ চাষাবাদের রাজনীতি।

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, জোট রাজনীতি ততই গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘটছে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ। একই সঙ্গে আছে চাষাবাদের নতুন কৌশল। শোনা যাচ্ছে নির্বাচনী সমঝোতার কথা। এই সমঝোতাও (পরোক্ষে) জোটের একটি অংশ। রাজনীতির ময়দানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় পার্টির নড়েচড়ে বসার খবর। এরই মধ্যে দলটি খেলাফত মজলিসের সঙ্গে একজোট হয়েছে। বাম দলগুলো কিছুটা ঘনীভূত হয়ে গঠন করেছে একটি মোর্চা। এছাড়া কারো কারো চেষ্টা রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক বলয় তৈরি করা। তবে মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গঠনের অন্যতম লক্ষ্যই আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপির সঙ্গে থেকে সরকার গঠন এবং সরকারের স্বাদ গ্রহণ। বলতে গেলে নির্বাচনের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র। এ যাত্রায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তদ্বীয় জোট মাঠে বেশ দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করছে। মাঠ পর্যায়ে বিএনপি বেশ কিছুটা কোণঠাসা হয়ে আছে। তারা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দলটি জোট সম্প্রসারণের কাজেও মনোযোগী হয়েছে। আমরা মনে করি, যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে তা অব্যাহত থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠানের সম্মানকে সমুন্নত রাখতে সক্ষম হবে।

"