বিদ্যুৎ আসবে নেপাল থেকে

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে এ যাবত কম চেষ্টা করেনি বাংলাদেশ। রাজনীতিও কম হয়নি। হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। তবে কোনো কিছুতেই ব্যাহত হয়নি এর অগ্রগতি। এ সময়ের উৎপাদন যেকোনো সময় ও সরকারের জন্য ঈর্ষণীয়। ইতিহাস বলছে, ১৯৪৭ সাল পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে মূলত প্রাইভেট সেক্টরে। ১৭টি প্রাদেশিক রাজ্যে সীমিত আকারে ব্যবহার হতো এই বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বিবেচনা করলে ১৯৭০, ৮০, ৯০, ২০০০, ২০১১ ও ২০১২ সালে ছিল যথাক্রমে ২২৫ মেগাওয়াট, ৬২৫, ১৮০৪, ৪০০৫, ৫৮০০, ৭৮১৪ এবং ৮০৯৯ মেগাওয়াট। আর ২০১৮ সালের মার্চে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ সময় উৎপাদন ৫ ডিজিট অতিক্রম করে। উৎপাদন ছিল ১০ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট। তবে একই সময় উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট।

১৬ কোটি মানুষকে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছাতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। আর সে কারণেই উৎসের সন্ধানে কাজ করছে বাংলাদেশ। উৎস সন্ধানের ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার নেপালের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। যার মধ্য দিয়ে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া অনেকটা গতিশীল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সমঝোতার আওতায় নেপাল থেকে ভারত হয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও নেপালের বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগের বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচিত হবে বলে আশা করছে উভয় দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারের মাস্টারপ্ল্যানে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার একটি অংশ আসবে আমদানি থেকে। নেপালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। এ প্রকল্পে বাংলাদেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে সে বিদ্যুৎ দেশে নিতে পারবে।

জলবিদ্যুৎ তুলনামূলক বিচারে সস্তা এবং পরিবেশবান্ধব হলেও এ দেশে এর উৎপাদন সম্ভব নয় বলেই নেপাল ও ভুটানের দিকে বিনিয়োগের হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশ দুটি এ আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং তা তিন দেশের জন্য একটি নান্দনিক বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। আমরা মনে করি, সরকারের এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের স্বার্থে আগামী দিনে একটি মহৎ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আমরা সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম।

"