বিদ্যুৎ বিলের তেলেসমাতি

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সমাজের কোথাও যদি আপনি প্রশ্নবোধক চিহ্নটি স্থাপন করেন, এর কোনো জবাবই আপনি পাবেন না। সঠিক জবাব তো অনেক দূরের কথা। চারপাশে যে অসংখ্য প্রশ্নের অবতারণা হয়ে আছে, তার একটিরও কোনো উত্তর নেই। একসময় এসব প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, এখন আর হয় না। অনেকটা গা সওয়ার মতো হয়ে গেছে। কিন্তু সবকিছুরই একটা সীমা আছে। আর সীমালঙ্ঘনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। শুধু আল্লাই নন; সম্ভবত পৃথিবীর কোনো সুসভ্য মানুষ এই লঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেনি। তার পরও এই লঙ্ঘনকারীদের তা-বে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। অনেকের মতে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কলুর বলদের কোনো পার্থক্য নেই। মুখে ঠুলি আর চোখে কাপড় বেঁধে একটি নির্দিষ্ট বৃত্তেই এদের ঘুরতে দেওয়া হয়। তেল উৎপাদনকারীর বলদ এরা। তেল উৎপাদন শেষেও এদের কোনো স্বাধীনতা নেই। প্রকৃতির মধ্যে বসবাস করেও এরা প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেকটা আমাদের মতো। সমাজের মধ্যে বাস করেও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। সম্ভবত এই একটি কারণেই সীমালঙ্ঘনকারীদের আজ এত দাপট এবং ক্ষমতা।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক লঙ্ঘিত বিষয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল ও তার তেলেসমাতি কারবার নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ করেই জুলাই মাসের পোস্ট পেইড বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন অগণিত গ্রাহক। তারা বলছেন, গত কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিলের চেয়ে জুলাই মাসের বিল এসেছে বেশি। কারো কারো ক্ষেত্রে এ বিল দ্বিগুণ হয়েছে, আবার কারো ক্ষেত্রে তিন গুণের চেয়েও বেশি। এমনকি পাঁচ গুণ বিল আসারও অভিযোগ রয়েছে। তবে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) বলেছেন, ‘ব্যবহার বেশি হলে বিল বেশি আসবে’। নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য বলেছেন। এক বিন্দুও মিথ্যা নয়। কিন্তু তিনি হয়তো ভুলে গেছেন, তার গ্রাহক পক্ষের কেউই দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র নয়। তারা বহুকাল আগে তাদের শৈশবে এ অঙ্ক শেষ করে এখানে এসেছেন। তারা এটাও জেনে এসেছেন, খাবারের পরিমাণ বেড়ে গেলে খরচের পরিমাণও বাড়ে। নতুন করে এ তত্ত্ব শেখার আর প্রয়োজন নেই।

কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আরো বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে নতুন প্রতিষ্ঠানকে মিটার রিডিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময় এরিয়ার বিল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে তারা খতিয়ে দেখছেন। তবে প্রকৃত সত্য অন্যখানে। বকেয়া বিল যুক্ত হওয়াই প্রকৃত কারণ নয়। প্রকৃত কারণ, সমন্বয়ের অভাব। মিটার রিডার ও বিলিং অপারেটরের মধ্যে সমন্বয় না থাকার কারণে এই জনদুর্ভোগ। বিল করা হচ্ছে ৪৩ থেকে ৪৫ দিনের। যেখানে বিল হওয়ার কথা ৩০ দিনের। ৩০ দিনের বিলে যে রিডিং হওয়ার কথা, ৪৫ দিনের রিডিং তার দেড় গুণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে ৩০ দিনের জন্য যে রিডিং আসবে তার প্রতি ইউনিটের চার্জ হবে ৫ থেকে ৬ টাকার মধ্যে। আর ৪৫ দিনের রিডিংয়ের প্রতি ইউনিটের জন্য দিতে হবে ৯ থেকে ১০ টাকা। এখানেই তেলেসমাতি। এ তেলেসমাতির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবহেলা ও গাফিলতির কারণে ভোক্তাপক্ষের মাথায় বাজপড়ার মতো অবস্থা। বিষয়টি যেন কুয়োর ব্যাঙ আর শিশুদের সেই ঢিল ছোড়া গল্পের মতো। আমরা আর এই অবহেলা এবং গাফিলতির শিকার হতে চাই না। সরকার বাহাদুর নিশ্চয়ই আমাদের এই চাওয়াকে পাওয়ায় পরিণত করবেন। আমরা সেই প্রতীক্ষায় থাকলাম।

"