সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত বা মারা গেলে অঘটনপটীয়সী চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে তদন্তে যদি দেখা যায় চালক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে হত্যাকা- ঘটিয়েছেন, তাহলে ফৌজদারি দ-বিধি ৩০২ ধারা মোতাবেক তার বিচার হবে। শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদ-। তবে বিষয়টি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং তদন্তসাপেক্ষে। আর তদন্ত করার এক্তিয়ার থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। এ বিধানগুলোকে সামনে রেখেই বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

দুর্ঘটনার তদন্তে থাকবে পুলিশ। আর এ কারণেই সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, মামলার ধারা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনিয়মের ঝুঁকি রয়েছে। পাঁচ বছর সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও পক্ষে-বিপক্ষে মতামত এসেছে। অন্যদিকে সাজা বাড়ানোর প্রতিবাদে দেশের কিছু অংশে প্রতিবাদ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বিপরীতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর প্রতিষ্ঠাতা জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্রস্তাবটি আদালতের পরামর্শকেও অবজ্ঞা করেছে। আদালতের পরামর্শে বলা হয়েছিল, সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদ- এবং প্রয়োজনবোধে আরো বাড়ানো যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ছিল বিদ্যমান আইনের চেয়ে প্রস্তাবিত আইনে শাস্তি আরো কঠোর হবে। কিন্তু আইনটিতে জনগণের চেয়ে বাসমালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থকে বড় করে দেখানো হয়েছে। তাদের মতে, এটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের আগেই যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে পাস করার প্রশ্নে উত্থাপন করা হোক। একই কথা বলেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি। তাদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়নে সরকারের দেওয়া অঙ্গীকার ও জনগণের প্রত্যাশা প্রস্তাবিত আইনে পূরণ হয়নি। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনসহ সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যাত্রীর প্রতিনিধিত্ব উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাখা হয়নি।

আমরা মনে করি, সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক। ৩৫ বছর পর আইনটির যে খসড়া চূড়ান্ত হলো, তা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এ কথা সত্য। তবে পাশাপাশি আরো একটি সত্য আছে। আর সে সত্যটি হচ্ছে, আইন আছে-বাস্তবায়ন নেই। আমরা যে আইনই তৈরি করি না কেন; বাস্তবায়ন না করা হলে সে আইন থাকা না থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। বরং বলা যায়, আমরা অপপ্রয়োগ হতে দেখেছি এবং দেখছি। সুতরাং, আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, আইন যাই হোক না কেন, তার বাস্তবায়নটাই মুখ্য। আমরা সততার মধ্য দিয়ে আইনের বাস্তবায়ন চাই। পাশাপাশি সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, জনগণের পাতে যদি একটু বেশি ঝোল রাখা যায়, তাতে কোনো পক্ষেরই ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটুকু প্রত্যাশা সাধারণ মানুষ করতেই পারে।

 

 

"