সংখ্যাই যখন হুমকি

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সীমা লঙ্ঘিত হলে বিপদ ঘনীভূত হবে। এ কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। আর এই কর্মটি বিশ্বব্রহ্মান্ডে একমাত্র মানুষ নামের জীবরাই করে থাকে। প্রাণী এবং জীবজগতে লঙ্ঘন করার ক্ষমতা একচ্ছত্র মানব সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্য কোনো প্রাণী অথবা জীবের কাউকেই এ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি বা পায়নি। তবে প্রকৃতি কোনো প্রাণী অথবা জীব সম্প্রদায়ভুক্ত না হলেও তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ নয়। এখন পর্যন্ত এ ক্ষমতা পরিমাপ করা কারো পক্ষেই সম্ভব হয়নি। মানুষ কেবল প্রকৃতিকে জয় করার মধ্য দিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এ জয় কখনো অহিংস পথে, কখনোবা বিপরীতে। সহিংস পথে জয় করার প্রচেষ্টায় যখনই লিপ্ত হয়েছে মানুষ, তখনই ঘনীভূত হয়েছে বিপদ। এসেছে দুর্যোগ। বেড়েছে দুর্ভোগ। সীমা লঙ্ঘিত হওয়ার কারণেই এ দুর্ভোগ।

বিপদ ঘনীভূত হচ্ছে। পৃথিবীর জনসংখ্যা ইতোমধ্যেই ৭৫০ কোটি ছাড়িয়েছে। ২০০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮০৪ সালে বিশ্বে জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১০০ কোটি। ২০৫০ সালে এ সংখ্যা হবে ১ হাজার কোটি। এ সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে ২১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে, যদি চলমান ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন না হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি যদি চলমান সময়ের মতো কেবলই বাড়তে থাকে; তাহলে প্রকৃতির ভারসাম্যের বিপর্যয়ের বিষয়টিকে নিশ্চিত বলে ধরা যেতে পারে। তখন হুমকিতে পড়তে পারে জলবায়ু এবং জীববৈচিত্র্যসহ গোটা বিশ্ব। মানব উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা প্রতিনিয়তই সীমা লঙ্ঘন করে চলেছি বলেই আজ এই হুমকি। যেকোনো সময়ে যা মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি করতে পারে সভ্যতাকে।

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। মানব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এখানে যেভাবে সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে পৃথিবীর কোথাও তার নমুনা খুঁজে পাওয়া ভার। সরকারি বিশেষজ্ঞদের তথ্য মতে, ফি বছর দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে ১৭ লাখ। আবার বেসরকারি হিসাব মতে, এ সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি। ১৭ অথবা ২০ যাই হোক না কেন, জনসংখ্যার এ বৃদ্ধি কোনোভাবেই বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক নয়। এখনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে হুমকিতে পড়তে পারে জনস্বাস্থ্য। বিরূপ প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান, ভূমি, কৃষি ও আবাসনের ওপর। বর্তমানে দেশে ৪৭ শতাংশ লোক বেকার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি করতে না পারলে বিপাকে পড়বে রাষ্ট্র। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণই হবে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি, ২০৪১ সালে উন্নত বিশ্বের তালিকায় নথিভুক্ত হতে হলে এ সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

"