চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করুন

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, রোগ-ব্যাধিগ্রস্ত অনেক মানুষ তাদের প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধু কিছু অসাধু চিকিৎসকের অবহেলার কারণে। অথচ চিকিৎসা একটি মহান পেশা। আজকাল অনেক চিকিৎসক তাদের এই দায়িত্বের কথা ভুলে গেছেন। তার জ্বলন্ত উদাহরণ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। গত রোববার থেকে এখানকার প্রাইভেট ক্লিনিক এবং রোগ নিরাময় কেন্দ্রগুলোয় চলছে চিকিৎসকদের ধর্মঘট। যদিও গতকাল থেকে তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তার পরও বলতে হচ্ছে, চট্টগ্রামে এর আগেও বেশ কয়েকবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। মনে রাখতে হবে, নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চিকিৎসকদের এ ধরনের ধর্মঘট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে তাদের নীতিনৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে ধর্মঘটের ডাক দেন বেসরকারি হাসপাতাল সমিতির নেতারা। এ ঘোষণার পর থেকে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগী দেখা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোগীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে চট্টগ্রাম প্রতিনিধির পাঠানো ‘চট্টগ্রামে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা বন্ধ’ শীর্ষক এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসাসেবায় এ অচলাবস্থা সৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের স্বার্থান্বেষী ডাক্তারদের কালো হাত। তাদের লক্ষ্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। ডাক্তারদের এই কর্মকা-ে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে জরিমানার ভয়ে কয়েকটি বড় হাসপাতাল আগেভাগে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে এক নোটিসে জানানো হয়, সাংবাদিকদের হামলার প্রতিবাদে তারা এ চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখেছেন। তবে হীনস্বার্থে যারাই এ অমানবিক ঘটনার সূত্রপাত করেছেন, নিঃসন্দেহে এটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। কারণ, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার তাদের কেউ দেয়নি। নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য এই কুটকৌশলের আশ্রয় নেওয়া এমনকি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অশান্ত করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ছাড়া চিকিৎসার নামে গলাকাটা বাণিজ্যের শিকার হচ্ছে চট্টগ্রামবাসী। পাশাপাশি অদক্ষ-অনভিজ্ঞ ডাক্তার-নার্স দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রামের প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতাল। এতে ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছে অনেকেই। যার উদাহরণ চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় সাংবাদিককন্যা রাইফা খানের মৃত্যু। প্রসঙ্গত, দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা গলায় ব্যথা নিয়ে গত ২৮ জুন বিকেলে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২৯ জুন রাতে তার মৃত্যু হয়। ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে বিক্ষোভ করেন সাংবাদিকরা। তবে আমরা এসব অনভিপ্রেত ঘটনার পুরাবৃত্তি চাই না। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী একজন চিকিৎসক কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবাকে দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না। এ কথা চিকিৎসককের অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

"