নির্বিঘ্ন হোক ঈদযাত্রা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। নারীর টানে ঘরে ফিরছেন মানুষ। তবে ঈদে ঘরে ফেরার যে করুণ চিত্র আমরা প্রতিবারই দেখি, এবারও এর কোনো পরিবর্তন হয়নি। সংবাদমাধ্যমে এর মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কের দুর্দশাগ্রস্ত চিত্র বেরিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সার্বিক অবস্থা আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে বৃষ্টিধারা মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক-মহাসড়কের করুণদশা ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা, অন্যদিকে হাজার হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অযোগ্য-অদক্ষ গাড়িচালক, বাড়তি ভাড়ার খড়্গ মানুষের ঘরে ফেরার আনন্দকে শঙ্কার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সড়কপথের পাশাপাশি দেশের নৌপথগুলোও নানা ধরনের নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে বছরের এ সময়ে দক্ষিণের জেলাগুলোর লাখ লাখ বাড়তি নৌযাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে অকেজো, পরিত্যক্ত নৌযানগুলোকে কোনো রকমে মেরামত করে নামানো হয়। এ ধরনের নৌযান প্রতি বছরই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গণপরিবহন সেক্টরের এসব নৈরাজ্য থেকে কবে মুক্তি মিলবে আমরা জানি না, তবে যথাসম্ভব অল্প সময়ের মধ্যে তার স্থায়ী ব্যবস্থা দেখতে চান ভুক্তভোগীরা।

ঈদে লাখো মানুষের ঘরে ফেরার বিষয়টি কোনো নতুন ইস্যু নয়। তবু বর্ষা ও ঈদের আগ মুহূর্তে তড়িঘড়ি রাস্তা সংস্কার, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও নৌযান মেরামত করে অসংখ্য মানুষের ঈদযাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার এসব অনৈতিক কর্মকা- বন্ধ করতে হবে। গত বছর কোরবানির ঈদের আগে দেশের ৪৪টি মহাসড়কের বেহাল দশার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এসব মহাসড়কে শত শত স্থানে ছোট-বড় গর্ত, খানাখন্দ যানবাহনের গতি শ্লথ করে দিচ্ছে, যানজটের সৃষ্টি করছে এবং দুর্ঘটনার কারণ হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। রাজধানী থেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলোয় যাতায়াতের কোনো সড়কই নিরাপদ ও নির্বিঘœ নেই। এ খাতে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনতে না পারার অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ ও নিরাপদ করতে হলে মহাসড়ক থেকে শহরের গলিপথ পর্যন্ত সর্বত্রই বেহাল অবস্থায় থাকা সড়কগুলো যত দ্রুত সম্ভব সঠিকমান ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ায় সংস্কার করতে হবে। সেই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, নৌযান এবং লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া কর্মকা-ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঈদে ও বর্ষায় মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষত হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বাড়তি উদ্যোগ ও নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।

ঈদে প্রতি বছরই লাখ লাখ মানুষ তাদের কর্মস্থল ছেড়ে যান আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে উৎসব করতে। সেই যাত্রাকে যতটা সম্ভব বিড়ম্বনামুক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকাই আমাদের কাম্য। যাত্রাপথের বিড়ম্বনায় ঈদের আনন্দের সামান্য ঘাটতিও যেন না হয়, সেটা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে সরকারের কর্তব্য। ঈদে মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ হোকÑএটাই

আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

"