চোরে না শোনে ধর্ম কাহিনী

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

একসময় প্রবচনটি ছিল বেদবাক্যের মতো। সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে তা পাল্টে গেছে। ধার হারিয়ে সে এখন মরচেধরা ছুরির মতো গেরস্থালীর অপ্রয়োজনীয় বস্তু। ‘চোরে না শোনে ধর্মকাহিনী’Ñ বাক্যটি শ্রবণ করিবার পর অতিশয় চোর কহিলেন, ‘যে দেশে কুশীল হইতে সুশীল পর্যন্ত সবাই চুরিবিদ্যায় পটু, সে দেশে ধর্মের কোনো পৃথক কাহিনী থাকিতে পারে না। ধর্ম এখন ধর্মান্তরিত হইয়া চৌর্যবৃত্তিক সাম্রাজ্যে প্রবেশ করিয়াছে। সুতরাং, এখানে চুরিই ধর্ম চুরিই স্বর্গ।’

পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘শত কোটি টাকার তেল চুরি।’ কার তেল কে চুরি করল? তেলের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে অর্থাৎ রেল বিভাগ। চুরি যারা করেছে, তাদের কোনো আলাদা পরিচয় নেই। এরাও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশ্বস্ত কর্মী বাহিনীর সদস্য। অর্থাৎ চাকরিজীবী। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও ট্রেনের তেল চুরি এখনো তার আপন গতিতেই ছুটে চলেছে। অত্যন্ত অভিনব পন্থায় এ চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরকে শনাক্ত করতে পারছে না রেল কর্তৃপক্ষ। বছরে দেড় কোটি লিটার তেল চুরি হওয়ার পরেও রেল কর্তৃপক্ষ কেন কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে আছে? এটাই আজ সবার জিজ্ঞাসা।

অভিযোগ রয়েছে, রক্ষকরাই যখন এখানে ভক্ষকÑ এ চুরি ঠেকাবে কে? অভিযোগ সত্য হলে বলতে হয়, ‘ধর্ম এখন ধর্মান্তরিত হইয়া চৌর্যবৃত্তিক সাম্রাজ্যে প্রবেশ করিয়াছে। সুতরাং, এখানে চুরিই ধর্ম চুরিই স্বর্গ।’ এ তত্ত্বেই আজ আমাদের সূর্য ওঠে এবং অস্তমিত হয়। বন্ধ করার ক্ষমতাও যেন আমাদের নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ সৈনিকরা যেন আজ একাত্তরের সেই সাহস বুকে নিয়ে অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারছেন না। করপোরেট এবং লুটেরা পুঁজি যেন তাদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে। এখন আমরা সেই নেই রাজ্যের বাসিন্দা, যেখানে অফুরন্ত ঘাটতি রয়েছে। অনুশীলনে ঘাটতি। সততায় ঘাটতি। দেশপ্রেমে ঘাটতি। এতসব ঘাটতির বোঝা কাঁধে নিয়েই আমাদের পথ চলা। এ যেন চলা নয়। আফিমের নেশায় বুঁদ হয়ে ঘোরের মধ্যে হেঁটে যাওয়া।

আমরা মনে করি, এই ঘোরের মধ্য বসবাস করা আর পিরামিড মমিদের সঙ্গে বসবাস করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমরা এই মৃত রাজপুরী থেকে বেরিয়ে মুক্ত আকাশে উড়তে আগ্রহী। সে জন্য সর্বাগ্রে যা প্রয়োজন তা হলো দেশপ্রেম। দেশপ্রেম এবং দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই। আফিমের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার বিরুদ্ধে এ দেশের সাধারণ মানুষ সবসময় মুক্তির পক্ষে থেকেছে এবং আগামীতেও থাকবে। আর এ কাজে সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকায় এগিয়ে এসে হাল ধরতে হবে। এটাই আকাক্সক্ষা এবং দেশবাসীর প্রত্যাশা।

"