বাজেট ভাবনায় নানা মত

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

বাজেট ২০১৮-১৯ আমরা পেয়েছি। যদিও চূড়ান্ত নয়, ‘প্রস্তাবিত’। তবু এটিই আমাদের বাজেট। পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন শেষে আমরা যা পাব, তার সঙ্গে এর খুব একটা পার্থক্য থাকবে বলে মনে হয় না। এ যাবৎ চলে আসা বাজেটগুলো সে কথাই মনে করিয়ে দেয়। প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমাণ ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বাজেট ঘোষণার পরপরই নানা মন্তব্যে ছেয়ে গেছে বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ। মিডিয়ার মাধ্যমে তা পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে। কেউ কেউ বলেছেন, এ বাজেট অর্থমন্ত্রীর স্বপ্নবিলাস। আবার কারো কারো মুখে শোনা যাচ্ছে অসম্ভবের বাজেট। কেউ বলছেন, করমুক্ত ভোটের বাজেট। আবার কাউকে বলতে শোনা যাচ্ছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ার কোনো সুযোগ নেই এ বাজেটে। কারো কারো মতে, গতানুগতিক। তবে অ্যানালিস্টদের মধ্যে কারো কারো মতে, এ বাজেট উচ্চবিত্তকে তুষ্ট করতে সক্ষম হলেও মধ্যবিত্তের কষ্টকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এখানেই শেষ নয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, এটি কল্পলোকের অবাস্তব বাজেট। পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান সরাসরি এ বাজেটকে গণবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ ছাড়া মিশ্রপ্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদরা। একদিকে তারা বাজেটের বেশ কিছু ভালো দিকের কথা বলেছেন, পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় প্রকাশিত হয়েছে তাদের বক্তব্যে। তাদের মতে, ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখায় বাজেটকে জনবান্ধব বলেও অভিহিত করেছেন অনেকেই। এ ছাড়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনার রূপরেখা ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন চালুর প্রস্তাব এবং সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণের আওতা ও ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে প্রশংসাযোগ্য বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে, বাজেটের ঘাটতি মেটাতে রাজস্ব আদায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তাদের মতে, ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হবে। পাশাপাশি কেউ কেউ বলেছেন, গতানুগতিক। এদের মতে, প্রস্তাবিত আয় ও ব্যয় দুটিই বেশি। কিন্তু যেসব উৎস থেকে আয় আশা করা হচ্ছে, তা সংগ্রহ করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে ব্যয়ের দোদুল্যমানতাও বাড়বে। বাজেট বাস্তবায়িত করতে হলে রাজস্ব আয়কেও বাড়াতে হবে। রাজস্ব আদায় যদি না বাড়ে, তবে বাজেটের সঠিক বাস্তবায়নও সম্ভব নয়।

আমরা মনে করি, সময় বিশেষে অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে। যদি এ দেশে আমরা সব ক্ষেত্র থেকে ‘সিস্টম লস’ নামের বিষয়টিকে সমূলে উৎখাত করতে পারি, তাহলে বাংলার মানচিত্র থেকে অসম্ভব শব্দটি বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। আমরা সেই সম্ভাবনার দেশে বসবাস করতে অগ্রহী। আশা করি সরকারও আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে একমত হয়ে সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে। যেখানে সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিহিত থাকবে।

"