স্বার্থের দ্বন্দ্বেই ডুবছে রাজনীতি

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দ্বন্দ্বেই জীবন, দ্বন্দ্বেই মৃত্যু। প্রকৃত অর্থে মৃত্যুকে নিয়ে ভাবার সময় আমাদের নেই। ভাবনার সবটুকুই জীবন ঘিরে। কেননা, জীবনের পরিসমাপ্তি টানা হয় মৃত্যু দিয়ে। পৃথিবীতে হাজারো কাজের মাঝে হাজারো দ্বন্দ্ব। রামকৃষ্ণ পরমহংসের মতে, ‘যত মত তত পথ’। বাক্যটি চিরন্তন সত্য এবং বস্তুর দ্বান্দিকতার একটি অংশ। তবে এ কথাও সত্য যে, সব দ্বন্দ্বের উৎসই হচ্ছে স্বার্থের শিকড়ে। স্বার্থ নামের এই বৃক্ষের শিকড় থেকেই দ্বন্দ্বের উৎপত্তি। আবার পৃথিবী থেকে স্বার্থ হারিয়ে গেলে দ্বন্দ্বের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর দ্বন্দ্ব অস্তিত্ব হারালে হারিয়ে যাবে গতি। গতি না থাকলে থাকবে না সভ্যতা। এরা অনেকটা সুখ এবং দুঃখের মতো। কিংবা বলা যায়, রাত আর দিন। দুটোকেই আমাদের প্রয়োজন। দুটোই জীবনের অংশ। একটিকে বাদ দিলে জীবন দ্বিখন্ডিত হবে। আর এই দ্বিখন্ডিত জীবন কখনোই পূর্ণাঙ্গ জীবনের স্বাদ এনে দিতে পারে না। এটাই নিয়ম। প্রকৃতি নিজেই এই নিয়ম অনুসরণ করে এবং সবাইকে অনুসরণ করার ইঙ্গিত দেয়।

স্বার্থ কিংবা দ্বন্দ্ব কোনোটাই আমাদের শত্রুপক্ষ নয়। পক্ষতা আমাদের চিন্তায় এবং চেতনায়। চিন্তা যখন সার্বিক কল্যাণের পথে হাঁটে তখন তা কারো জন্য ক্ষতিকর নয়।

আবার সেই চিন্তা যখন সার্বিক কল্যাণের বিপরীতে হাঁটবে তখন তা পৃথিবীর সব কিছুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এখানে ভালোর সঙ্গে খারাপ অথবা খারাপের সঙ্গে ভালোর দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। আর এই দ্বন্দ্বের কারণেই সংঘাত, ধ্বংস অথবা কল্যাণের অগ্রযাত্রা। প্রশ্ন উঠেছে, পাহাড় কি আবারও আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে? আবারও কি অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়, আবারও কি সেখানে হত্যা, অপহরণ আর খুনের মহাযজ্ঞ শুরু হতে চলেছে। এ প্রশ্ন আজ ঘুরেফিরে আলোচিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। পাহাড়ে দেখা দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিবদমান এই দুই সংগঠনের একত্রীকরণে আবার যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। আর এ দুটি সংগঠন থেকে যারা বের হয়ে নতুন দল গঠন করেছেন, তাদের ওপর আছড়ে পড়ছে অস্ত্রের অসভ্য শব্দাবলি। ইতোমধ্যেই নতুন দলের দুই প্রধান নেতাসহ পাঁচজনকে হত্যা করেছে পুরনো দুটি দল। পাহাড়ে আবারও শুরু হয়েছে রক্তের হোলি।

আমরা মনে করি, প্রতিটি কাজের পেছনে প্রত্যেক মানুষের রয়েছে স্বার্থ। এখানেও তার প্রতিফলন আছে। তবে স্বার্থের প্রশ্নে আমরা বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষুদ্র স্বার্থের পায়ে বলি দিতে পারি না। এখানে রাষ্ট্রের স্বার্থও জড়িয়ে আছে। অর্থাৎ ১৬ কোটি মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণও জড়িত। সুতরাং কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে সরকারকে এর মূলোৎপাটনে এগিয়ে আসতে হবে। নিতে হবে কঠোর কর্মসূচি। আমরা সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ চাই।

"