এই প্রবণতা রোধ করতে হবে

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দেশজুড়ে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠছে এসব ভবন। এ ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারী ভূমিকা পালন করছেন বাড়ির মালিকরা। তাদের নেপথ্য থেকে সহায়তা করছেন সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোয় কর্মরত কিছু অসাধু কর্মকর্তা। যারা নামমাত্র তদারকির নামে এসব বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি দেন। যে কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এমনকি নির্মাণ অবস্থায় অনেক ভবন হেলে পড়ছে। এমতাবস্থায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত রাজধানীবাসী। নগরবিদদের অভিমত, নির্মাণত্রুটি এবং নিয়মবহির্ভূত অবৈধ স্থাপনা তৈরির ফলে এসব অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া এ অপরাধকে রোধ করা সম্ভব নয়।

তবে নিয়ম রক্ষার্থে রাজউকসহ সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত ভবনের বিরুদ্ধে শুরু করেছে অভিযান। চলছে ভবন চিহ্নিতের কাজ। তবে, এখানেও আশানুরূপ কোনো সুখবর নেই। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘নকশাবহির্র্ভূত ভবন নির্মাণের হিড়িক : বাড়ছে ঝুঁকি’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবন নির্মাণের নতুন নির্মাণ আইন অনুযায়ী, প্লটের আকৃতিভেদে ৬ থেকে ১০-তলা পর্যন্ত উঁচু বাড়ি তৈরি করতে হলে দুই পাশে ও পেছনে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা খালি রাখতে হবে। যাতে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু এ আইন রাজউকের কোষাগারেই জমা পড়ে আছে। কেউই মানছে না। আমাদের জানা মতে, ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে শুধু ঢাকাতেই বসবাস করছে দুই কোটি। এখানে রাজউক এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ভবনগুলো তদারকি করে থাকে। রাজউকের আটটি জোনে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ জরিপ কর্মসূচির আওতায় ২৪ হাজার ৭৫৯টি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। যার মধ্যে শুধু ফেব্রুয়ারিতে পরিদর্শন হওয়া ৭০৯টি ভবনের মধ্যে ৫৪৯টি বাড়ি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে; নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের হার ৭০ শতাংশ। এসব অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে নামমাত্র। অতিরিক্ত টাকার লোভে ভবন-মালিকরা জমি সংকুচিত এবং বাড়ি বড় করে ভবন নির্মাণ করছেন। সেই বাড়ি কিংবা ভবনে আলো-বাতাস-অক্সিজেন প্রবেশ করছে কি নাÑসে কথা ভাবছেন না। এ ছাড়া ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো দেশ। যদি বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প হয়, তাহলে রাজধানীর ৭৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়বে। আর ভবনধস ও আগুন লাগলে যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। ভবন-মালিকরা এসব ভাবেন না। ফলে দিনে দিনে ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

আইন না মানার প্রবণতা এবং লোভী মানসিকতার কারণেই দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দেশবাসীকে কীভাবে ঝুঁকিমুক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনা দ্রুত গ্রহণ করা উচিত। দেশের মানুষকে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

 

 

"