নিম্নমানের এনআইডি

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

যখন মানুষের মানবিক বোধের অবক্ষয় ঘটবে তখন সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানের ভারসাম্য বিঘিœত হবে। এটাই স্বাভাবিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক। পৃথিবীর কোথাও এর ব্যত্যয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ব্যত্যয় হয়েছে এমন কোনো উদাহরণও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্তত বিশ্ব ইতিহাসে। আর এ সময়ে বাংলাদেশে ‘স্মার্ট টেকনোলজিস বিডি’ আবারও একবার তা প্রমাণ করল। প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গে যত বলিষ্ঠভাবে ‘স্মার্ট’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে বাস্তবতায় বিয়োজনের আধিক্য ততটাই প্রবল বলে প্রতীয়মান হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নামে যতটা স্মার্ট কাজে ততটাই আনস্মার্ট। ভাষ্যটি মিডিয়ার। তবু এই প্রতিষ্ঠানের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি মুদ্রণের কাজ। আর এই প্রতিষ্ঠানের কাজে সন্তুষ্ট হতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে তাদের তৈরি কার্ড বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। আর সঙ্গত কারণেই কাজের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯ কোটি টাকা পানিতে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সর্বনি¤œ দুই দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন খোদ নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারাই।

এ দেশে এ রকম ঘটনা নতুন কিছু নয়। কংক্রিট ঢালাই কর্মে আমরা লোহার বদলে বাঁশ ব্যবহার হতেও দেখেছি। মিডিয়ায়ও প্রকাশিত হয়েছে সংবাদ। কিন্তু অপকর্ম থেমে থাকেনি। সব সময়ই কোনো এক অজানা রহস্যের ধূম্রজালে ঢাকা পড়েছে আমাদের অপরাধ। আর সে কারণেই সীমাহীনভাবে বেড়েই চলেছে অপরাধের মাত্রা। আরো সাহসী হয়ে উঠছে অপরাধী চক্র। বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে কোনো সুস্থ সমাজ বেড়ে উঠতে পারে না। সমাজকে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে হলে সর্বাগ্রে চাই মানবিক বোধসম্পন্ন একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানের কাজ হবে, সমাজ থেকে অমানবিকতার চিন্তা ও চেতনাকে পরিষ্কার করা। প্রশ্ন উঠতেই পারে এ রকম প্রতিষ্ঠান কি সমাজে নেই? আছে। তবে তা কার্যত না থাকারই মতো। অথবা বলা যায়, তাদের বেশির ভাগই মানবিক চিন্তা-চেতনার পক্ষে নয়। সরাসরি বিপক্ষে। যে কারণেই এত জটিলতা। স্মার্টফোনের মান এতটাই নিম্নমানের যে, কাজ দেখে স্বয়ং নির্বাচন কমিশনকে স্তম্ভিত হতে হয়েছে।

আমরা সমাজ বিশ্লেষকদের সঙ্গে একমত হয়ে বলতে চাই, এর একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। কিন্তু কে এর সমাধান দেবে? আমাদের বিশ্বাস দেশের আইন ব্যবস্থাই বিষয়টির সমাধান দিতে পারে। যদি আইন ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মানবিক চিন্তা-চেতনায় পরিচ্ছন্ন হতে পারেন। এখন প্রশ্ন, ‘তারা কি পারবেন’!

"