সমস্যার সমাধান জরুরি

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

অব্যবস্থাপনার আরেক নাম সরকারি হাসপাতাল। তা রাজধানী কিংবা বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে হোক, সবখানে ওই একই চিত্র। ডাক্তার আছে তো ওষুধ নেই, ওষুধ আছে তো সিট নেই, সিট আছে তো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। এমন অব্যবস্থাপনার সঙ্গে এবার যুক্ত হলো সরকারি হাসপাতালগুলোতে লিফটের সমস্যা। সংবাদমাধ্যম অনেক দিন ধরেই এ সমস্যার কথা বলে আসছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের গাল ভরা প্রতিশ্রুতি ছাড়া কার্যত অবস্থার কোনো হেরফের হয়নি। মনে রাখতে হবে, খুব সাধারণ মানের রোগীরাই সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু ব্যাপক সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে অনেক কাজেরই কোনো সুরাহা হয় না, থাকে না শৃঙ্খলা। যার খেসারত দিতে হয় রোগীদের। জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালগুলোর অধিকাংশ লিফটই প্রয়োজনীয় মুহূর্তে বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে অসুস্থ রোগীরা সেটা ব্যবহার করতে পারছেন না। ৯০ ভাগ লিফটের কোনো অপারেটর নেই। তাই অসুস্থ ব্যক্তিদের বহুতল ভবনে ওঠানামা করানো হয় টলির মাধ্যমে। আবার কোথাও কোথাও অপারেটর থাকলেও দায়িত্ব পালনে তারা মোটেও সচেতন নন।

অনেকের অভিযোগ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঠিকমতো লিফট সার্ভিসিং করানো হয় না। যার ফলে লিফটের সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা। বরং রোগীর ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত সচল লিফটগুলো ব্যবহার করছেন ডাক্তার ও কর্মকর্তারা। রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ও নিম্নমানের যন্ত্র সংযোজনের ফলে কিছুদিন ব্যবহারের পরই অধিকাংশ লিফট অকেজো হয়ে যায়। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘সরকারি হাসপাতাগুলোতে বেশির ভাগ লিফট অকেজো’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এ অব্যবস্থাপনার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫টি লিফটের বেশির ভাগই ডাক্তাররা ব্যবহার করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১টি লিফট আছে। রোগীর চাপ বেশি থাকায় নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি মানুষ ওঠানামা করে। ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি থেকে যায়। একইভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চারটি লিফট আছে। এর মধ্যে ২০১২ সাল থেকে দুটি নষ্ট। ২৫০ শয্যার শ্যামলী টিবি হাসপাতালে দুটি লিফটের একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ। ঢাকা শিশু হাসপাতালের নতুন ভবনে দুই বছর ধরে কার্যক্রম চললেও একটি লিফটও বসানো হয়নি। পুরাতন ভবনে দুটি লিফট থাকলেও এগুলো প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়ে। তবে এগুলোর জন্য সার্বক্ষণিক অপারেটর আছে। পাশেই জাতীয় অর্থোপেডিকস হাসপাতালে চারটি লিফটের মধ্যে একটি নষ্ট থাকায় লিফট অপারেটরকে দিয়ে অন্য কাজ করানো হচ্ছে। নষ্ট লিফট সম্পর্কে আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, দেশে দুই ধরনের লিফট ব্যবহার করা হয়। সরাসরি কোম্পানি থেকে আমদানি করা লিফটকে ইনটেক এবং বিভিন্ন কোম্পানির যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করে তৈরি করা লিফটকে ক্লোন লিফট বলা হয়। দামে কম হওয়ায় সাধারণত বেশির ভাগ ক্লোন লিফট সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া এ কেনাবেচার সঙ্গে তথাকথিত ‘কমিশন’ বাণিজ্য যুক্ত থাকায় ইনটেক লিফট না লাগিয়ে রিকন্ডিশন লিফট ব্যবহার করতে হয়। আর এর ফলে এ লিফটগুলো অল্প দিনেই নষ্ট হয়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, সরকারি হাসপাতালগুলোর নানা অব্যবস্থাপনা দূর করাসহ চিকিৎসাসেবা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। এর জন্য সব অন্তরায় চিহ্নিত করা। লাল ফিতার দৌরাত্ম্য যেন চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। বিকল লিফটগুলো দ্রুত সচল করে রোগীদের স্বচ্ছন্দে ওঠানামার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা প্রশাসনকে গতিশীল করার পাশাপাশি সব ধরনের অব্যবস্থাপনা থেকে চিকিৎসা খাতকে মুক্ত রাখতে হবে। যাতে মানুষের মৌলিক এই অধিকারটি কোনোভাবেই বিঘিœত না হয়।

 

"