শুভ নববর্ষ ১৪২৫

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

আজ পহেলা বৈশাখ। ১৪২৫ বাংলা বছরের প্রথম দিন। সকালের পূর্বাকাশের রক্তিম সূর্য জানিয়ে দিয়েছে ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা সরিয়ে দিয়ে’ আজ বাঙালি প্রাণে নতুন দিনের ছোঁয়া লেগেছে। প্রাণের উচ্ছ্বাসে আর বর্ণিল আয়োজনে প্রতিটি বাঙালি আজকের এই মহান দিনটি বরণ করে নেবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রত্যেক বাঙালি বর্ষবরণের নানা আয়োজনে মেতে উঠবে। হাজার বছরের ঐতিহ্য সমৃৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতি। পহেলা বৈশাখ সেই ঐতিহ্যেরই গর্বিত অংশ। ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে আবহমানকাল ধরে নববর্ষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে আসছে বাঙালি। নানা লোকাচারে সমৃদ্ধ পহেলা বৈশাখ একটি সার্বজনীন অসাম্প্রদায়িক উৎসব। বাংলার শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বাংলা নববর্ষ।

বাংলার কৃষিজীবী সমাজের কাছে লোকায়ত উৎসব হিসেবেও বৈশাখের গুরুত্ব অনেক। কারণ নতুন বছরের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ। যাতে ফসল বোনা ও প্রাপ্তিতে কোনো ধরনের অমঙ্গলের ছায়া না পড়ে। বৈশাখ যেমন নব সৃষ্টির, তেমনি ধ্বংসেরও। যদিও প্রকৃতির এ ভাঙাগড়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে নব সৃষ্টির বীজ। সঙ্গত কারণেই সবার মনে আজ একটাই সুর, ‘যাক পুরাতন স্মৃতি/যাক ভুলে যাওয়া গীতি,/অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।’ পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক যেমন নিবিড়, তেমনি অর্থনৈতিক সম্পর্কও অনেক। শুধু পহেলা বৈশাখের এই একটি দিন ঘিরেই চলবে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৬৭ সালে ছায়ানট রমনার বটমূলে বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করেছিল। এতে হাজার হাজার বাঙালি যোগ দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আজও রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল নামবে। তবে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর নানা অশুভ কর্মকান্ডে এই উৎসবের গায়ে লেগেছে রক্তের ক্ষতচিহ্ন। এসব কারণে সরকারি ঘোষণায় বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় রংবেরঙের মুখোশ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, উৎসব নির্বিঘœ করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। তবে আমরা মনে করি, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের। এ ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করে সংস্কৃতিচর্চাকে ব্যাহত করা পরাজয়েরই নামান্তর।

স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশে মৌলবাদী আস্ফালন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি অপশক্তির মূলোৎপাটন করে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ে তুলুন। সর্বোপরি প্রগতিশীল প্রত্যেক মানুষের কাছেও আমাদের আহ্বান, মনুষ্যত্বের পক্ষে মেধা, মনন ও শক্তি নিয়ে রুখে দাঁড়ান। নববর্ষের এইদিনে উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ নিন। সংকীর্ণ ক্ষুদ্র স্বার্র্থ যেন পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। সেক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বছরের এই বিশেষ দিনে আমাদের অগণিত পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভ নববর্ষ।

 

"