আন্তর্জাতিক

কূটনৈতিক টানাপড়েনে ব্রিটেন ও রাশিয়া

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

রায়হান আহমেদ তপাদার

গত ৪ মার্চ যুক্তরাজ্যের সেলসবারি শহরের একটি বিপণিকেন্দ্রের বেঞ্চে পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার ৩৩ বছরের মেয়ে ইউলিয়াকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় ব্যবহৃত নার্ভ এজেন্টের সন্ধান পায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্য এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করলেও রুশ কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে। আর এর পরই গত বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে যুক্তরাজ্যে নিয়োজিত ২৩ রুশ কূটনীতিককে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের দেশত্যাগের নির্দেশ দেন। এর পরই রাশিয়া থেকে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘটনায় পাল্টা ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ায় নিযুক্ত এ ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে রাশিয়ার রুশ পররাষ্ট্র দফতর। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশটিতে থাকা ব্রিটিশ কাউন্সিল ও সেন্ট পিটার্সবার্গের ব্রিটিশ কনস্যুলেট। সাধারণত বিভিন্ন দেশে থাকা ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার চেষ্টা করে যুক্তরাজ্য। ফলে মস্কোর এ পদক্ষেপকে কূটনীতিকদের বহিষ্কারের চেয়েও মারাত্মক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। খবরে বলা হয়েছে, শনিবার রাশিয়ায় নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লরি বিরসতোকে তলব করে মস্কো। এ সময় তার কাছে ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কারের চিঠি তুলে দেওয়া হয়। চিঠিতে বহিষ্কৃতদের এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিবিসির রুশ প্রতিনিধি সারাহ রেইন্সফোর্ড বলেছেন, রাশিয়ার নেওয়া পদক্ষেপ ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপের চেয়ে আরো কঠোর।

তবে এর আগে লন্ডনে পক্ষত্যাগী এক রুশ কূটনীতিক ও তার মেয়েকে রাসায়নিক প্রয়োগের ঘটনায় ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এর জবাবে তখনই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এখন প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাজ্যের কূটনীতিক বহিষ্কারের পদক্ষেপে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন’র রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক জিল্লুর রহমান খান মনে করেন, যুক্তরাজ্য বুঝতে পেরেছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হবে। রাশিয়ার সঙ্গে কোনো কাজ হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যের প্রতি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি আছে বলে তিনি মনে করেন। জিল্লুর বলেন, কানাডার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভালো সম্পর্ক আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি ভালো সম্পর্ক বজায় থাকে, তাহলে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা অন্যদের প্রয়োজন নেই। আর এ কারণেই যুক্তরাজ্য এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। যুক্তরাজ্য থেকে রুশ কূটনৈতিক বহিষ্কারের ঘটনায় এবার যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক বহিষ্কারের পালটা হুমকি দিল রাশিয়া। রাশিয়ায় থাকা যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনে নিয়োজিত থাকা কূটনৈতিকদের মধ্যে কয়েকজনকেই বহিষ্কারের ইঙ্গিত দেয় রাশিয়া। দেশটির বার্তা সংস্থা স্পুটনিকের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন কথা বলেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্জেই লেভরভ। লেভরভকে প্রশ্ন করা হয় যে, যুক্তরাজ্যের রাশিয়ান কূটনৈতিক বহিষ্কারের জবাবে রাশিয়াও তার দেশ থেকে ব্রিটিশ কূটনৈতিকদের বহিষ্কার করবে কি না? এমন জবাবে ইতিবাচক জবাব দেন তিনি। আর এ সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। রাশিয়ার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে আসা দেশটির সাবেক এক গুপ্তচরের ওপর নার্ভ এজেন্ট’ প্রয়োগের অভিযোগে বুধবার ২৩ জন রাশিয়ান কূটনৈতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাজ্য। এমন সিদ্ধান্তকে কা-জ্ঞানহীন হিসেবেও উল্লেখ করেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

শুধু তাই নয়, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের রাশিয়ার ভিসা দেওয়ার সংখ্যাও কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় রাশিয়া। লন্ডনের রাশিয়ান দূতাবাসের এক মুখপাত্র দূতাবাসের এমন সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করে রাশিয়া। ব্রিস্টলে আজ যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেভিন উইলিয়ামসন বলেন, রাশিয়ার পালটা কোনো কাজ করা উচিত না। তাদের যুক্তরাজ্য থেকে চুপচাপ চলে যাওয়া উচিত আর চুপ থাকা উচিত। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা বলেন, লন্ডন কিছু লুকানোর চেষ্টা করছে। তাদের মিত্ররা আতঙ্কিত। শুধু তা-ই নয়, যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতির সমস্ত দায়ভার লন্ডনকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করে ক্রেমলিন। যুক্তরাজ্য এবং রাশিয়ার এমন মুখোমুখি অবস্থানে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট। কেউ কেউ এটিকে কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের পূর্বাভাস হিসেবেই দেখছেন। চলতি মার্চ মাসের ৪ তারিখ রাশিয়ার সাবেক গুপ্তচর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সের্গেই স্ক্রিপালের সঙ্গে দেখা করেন তার মেয়ে ইউলিয়া স্ক্রিপাল। রাশিয়া থেকে যুক্তরাজ্যের সলসবেরিতে এসে বাবার সঙ্গে দেখা করেন তারা। এ সময় একটি পিৎজার দোকানে খাবার খেতে ঢুকতে সেখানেই তাদের ওপর নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয় বলে নিশ্চিত হয় যুক্তরাজ্য পুলিশের ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তারা। ঘটনায় ঘণ্টা দুয়েক পর শহরটির একটি পার্কে মুমূর্ষু অবস্থায় বাবা-মেয়েকে অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনার জন্য রাশিয়াকেই শুরু থেকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের অভিযোগ, দেশটির মাটিতে রাশিয়ার এমন ষড়যন্ত্র রীতিমতো ধৃষ্টতা।

উল্লেখ্য, অনেক আগে থেকেই রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন তীব্র হয়ে উঠেছে। ইংলিশ চ্যানেলে রুশ যুদ্ধজাহাজের বিচরণ, যুক্তরাজ্যে রুশ টিভির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা এর বিপরীতে রাশিয়ায় বিবিসির রোষানলে পড়ার ঘটনা এবং যুক্তরাজ্যের রুশ দূতাবাস গুটিয়ে আনার বিষয়গুলো অন্তত তাই নির্দেশ করছে। রাশিয়ার একটি নৌবহর সিরিয়ার পথে রয়েছে। গত শুক্রবার রাতে জাহাজগুলো ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করছিল। এ সময় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ওই রুশ নৌযানগুলোর প্রতি সতর্ক নজর রেখে পাশাপাশি চলছিল। রাশিয়ার জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে গেলেও সেগুলো যুক্তরাজ্যের খুব কাছাকাছি থাকায় ব্রিটিশ নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থায় ছিল। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকায় ওই নৌবহরকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে বোমাবর্ষণের ঘটনায় রাশিয়ার অংশগ্রহণের জোরালো নিন্দা জানিয়েছেন। রুশ নৌযানগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবস্থান করলেও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন বলেছেন, তারা নিরাপত্তার জন্যই ওই নৌবহরের গতিবিধি নজরে রাখছেন। সম্ভবত ভূমধ্যসাগরের পূর্বদিক দিয়ে প্রবেশের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে ওই নৌবহর। এতে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজও রয়েছে। রাশিয়ার একটি সংবাদপত্রও সিরিয়ার উদ্দেশে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর খবর ছেপেছে। লিখেছে, এটা কোনো পর্যটন নয়; বরং সিরিয়া উপকূলে নৌ উপস্থিতি বাড়াবে এবং বিমানবাহিনীরও শক্তি বৃদ্ধি করবে। নরওয়ের সামরিক বাহিনী তাদের নজরদারি বিমানের সাহায্যে ওই নৌবহরের বেশ কয়েকটি ছবি তুলে গত বুধবার প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ওই নৌবহরে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরি অ্যাডমিরাল কুজনেস্তভ এবং বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ পিয়োত্র ভেলিকিও রয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস গত জুলাইয়ে বলেছিল, অ্যাডমিরাল কুজনেস্তভ সিরিয়ায় রুশ অভিযানে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত অংশ নেবে। রুশ টিভি চ্যানেলের ব্যাংক হিসাব জব্দ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক রাশিয়া টুডের (আরটি) যুক্তরাজ্যের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংক। আরটির প্রধান সম্পাদক মার্গারিটা সিমোনিয়ান এ কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র আলেপ্পোয় বোমা বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে সিরিয়া ও রুশ সরকারের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার হুমকি দেওয়ার এক দিন পর ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংক এ পদক্ষেপ নিল। আরটির প্রধান সম্পাদক মার্গারিটা এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংক আমাদের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।’ আরটি জানায়, ব্যাংকটি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে কোনো ধরনের ব্যাখ্যাও দেয়নি। এতে আরো বলা হয়, রয়্যাল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড গ্রুপ আরটিকে আর সেবা না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই গ্রুপেরই অংশ ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংক। এর আগে আরটি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের জন্য যুক্তরাজ্যের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পায়। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়ে বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি করা হয় বিবিসির তরফ থেকে। এ নিয়ে অফকমের কাছে অভিযোগ দায়েরের পর বিবিসি ওই টিভি চ্যানেলটির বিরুদ্ধে মামলায় জয়লাভ করে। ব্রিটেনে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটির সম্প্রচারে অচলাবস্থার নেপথ্যে বিবিসির ইন্ধন রয়েছে; এমন দাবি করে এবার রাশিয়াতে ওই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বন্ধের হুমকি দিয়েছে মস্কো। শুক্রবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং প্রভাবশালী ব্রিটিশবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান খবরটি নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে তারা জানিয়েছে, আরটির বিরুদ্ধে নেওয়া ‘ব্রিটিশ তৎপরতা’র প্রতিশোধ নিতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তারা। ব্রিটেনে আরটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও মস্কোর তরফ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছিল। আরটি কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্রিটেনে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কোনো নোটিস, আলোচনা বা ব্যাখ্যা ছাড় বন্ধ করে দেওয়া হয়ছে। চ্যানেলের প্রধান সম্পাদক মার্গারিটা সিমোনিয়াম সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, ব্রিটেন দেশটিতে আমাদের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে এবং ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এ নিয়ে তারা কোনো আলোচনা করবেন না। বিদ্রƒপের সুরে মার্গারিটা মন্তব্য করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জয় হোক। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র দাবি করেছেন, ব্যাংক হিসাব বন্ধের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্রিটেনের ইন্ধন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিবিসির রুশ দফতর থেকে ব্রিটেনে আরটির কার্যক্রম তদন্ত করে দেখা হয়েছে। ওই তদন্তকে তিনি ফলাফলশূন্য এক তদন্ত বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিবিসির রুশ সার্ভিসের সৌভাগ্য কামনা করি। কেননা সেটা এখন তাদের দরকার। ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে থাকা ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় রুশ সম্প্রচার মাধ্যম আরটির (রাশিয়া টুডে) হিসাব বন্ধের সঙ্গে চলছে গার্ডিয়ানের মতো প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর আরটিবি রোধী তৎপরতা। আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনীর বোমা হামলায় রুশ মদদ থাকার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলো যখন রাশিয়াতে অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, তখন শিশুদের নিয়ে কাজ করা এক বেসরকারি সংস্থা এই সংবাদমাধ্যম থেকে তাদের বিজ্ঞাপন তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, এটি ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের ব্যাপার। তারাই ঝুঁকি বিবেচনা করে ঠিক করবেন তারা কাকে সেবা দেবেন বা দেবেন না। ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর রাশিয়া বা দেশটির কোনো ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়ানি। আরটির পরিচালক মার্গারিটা সিমোনিয়াম গার্ডিয়ানকে বলেন, আরটির বিরুদ্ধে নেওয়া এসব অবস্থানের নেপথ্যে সিরিয়া প্রশ্নে পশ্চিমা বিশ্ব ও রাশিয়ার দ্বন্দ্বের সম্পর্ক থাকতে পারে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ইয়াকোভেঙ্কো বলেছেন, লোকবলের অভাবে তাদের দূতাবাস ছোট হয়ে আসছে। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে বিলম্ব করা এবং ব্রিটিশ মন্ত্রীদের রাশিয়াবিরোধী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ইয়াংকোভেঙ্কো অভিযোগ করেন, ‘লন্ডন দূতাবাসে রাশিয়ার পর্যাপ্ত কূটনৈতিক কর্মকর্তা নেই। তাই দূতাবাস ছোট হয়ে আসছে।

লেখক : লেখক ও কলামিস্ট

raihan567@yahoo.com

"