নিবন্ধ

চ্যালেঞ্জ আরো বেড়ে গেল

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

সাঈদ চৌধুরী

বাংলাদেশ এখন জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত উন্নয়নশীল দেশ। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের মানদ- অনুযায়ী মাথাপিছু আয় যেখানে প্রয়োজন কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৬১০ মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকেও বড় ধরনের সফলতা। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ। মানবস¤পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। যদিও স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে আরো সময় লাগবে। তবু এ স্বীকৃতিকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখতে পারি। এখন অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাড়াতে সরকারকে আরো বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। দুর্নীতি কমিয়ে মাথাপিছু আয়ের সীমা সব মানুষের সুসম পর্যায়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। এ জন্য সর্বাগ্রে জনসংখ্যা ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। জনসংখ্যা এখনকার মতো বাড়তে থাকলে একসময় আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে সমানুপাতিক হার থাকবে না। এরই সঙ্গে দুর্নীতি কমাতে পারলে মাথাপিছু আয় আরো বাড়বে। কারণ তখন মানুষ সঠিকভাবে টাকার ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।

যে কমিটি বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে তারা আবার এ বিষয়টি নিয়ে বসবে ২০২১ সালে। বাংলাদেশের সবগুলো দিক বিবেচনায় এনে যদি তারা দেখে মানদ-ে সমান পর্যায়ে অবস্থান করছে, বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থা তখন তারা এই উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত রাখবে এবং সবশেষ ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা দেবে। এখন বাংলাদেশ সরকারের যে যে ক্ষেত্রে কাজ বাড়াতে হবে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্র উন্মোচিত করা। বেসরকারি বিনিয়োগ না বাড়াতে পারলে জিডিপির হার বাড়বে না। বর্তমানে জিডিপির হার ২৩ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ জিডিপির হার বাড়াতে প্রয়োজন বাড়তি ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তা যে রকম ছিল, তা আগামী বছরগুলোয় ধরে রাখতে হবে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় বড় কাজ হাতে নিতে হবে। পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বাংলাদেশের পোশাকের আলাদা কদর রয়েছে। এই কদর এখন বাংলাদেশ উন্নয়শীল দেশ হওয়ায় আরো বাড়বে। রফতানি খাত ও এই রফতানি থেকে বৈদেশিত মুদ্রা অর্জন আরো বাড়াতে হলে অবশ্যই অন্যান্য ধরনের শিল্প-কারখানা স্থাপনে মনোযোগী হতে হবে। পোশাকশিল্পের সঙ্গে সঙ্গে ওষুধশিল্প ও ইলেকট্রনিকসশিল্পের দিকেও নজর বাড়াতে হবে।

রফতানি খাত বাড়ানোর জন্য কৃষিজাত পণ্যকে দূষণমুক্ত করে বিপণন উপযোগী খাতে পরিণত করতে হবে। কৃষিজাত পণ্য বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্পদ। বাংলাদেশের এ সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ খুব সহজেই আরো গতিশীলভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। এখানে মূল কৃষিজপণ্য আলু, বেগুন এবং টমেটোর চাহিদা বিশ্বে বেশি। অথচ আলুর ভরা মৌসুমে দেখা যায় কৃষকের কী ধরনের কান্না ও আক্ষেপ! এখন টমেটোর ক্ষেত্রেও তাই। বিশ্বে টমেটোসসের যে চাহিদা রয়েছে, তা বাংলাদেশ অনেকটাই পূরণ করতে পারে, যদি সঠিক মাধ্যমে দূষণমুক্তভাবে তা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। সবজি রফতানির ক্ষেত্রে দূষণমুক্ত সবজি রফতানি বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করতে পারলে সেটা হবে বড় ধরনের একটি সাফল্য। একই সঙ্গে চিংড়ির সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাতে হবে। চিংড়ির রফতানির জন্যও সঠিক নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করতে হবে। যাতে করে চিংড়ির মান বজায় রেখে রফতানি করা যায় সেটার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। জিআই পণ্য ইলিশ নিয়ে সরকারের ভাবনা বাড়াতে হবে। তাঁতশিল্প উন্নয়নে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো যদি সঠিকভাবে করা যায় তবে বাংলাদেশ হতে পারে পোশাক এবং খাদ্য রফতানিতে বড় একটি দৃষ্টান্ত।

টেকশই শিল্পোন্নয়ন ও কৃষিজপণ্যের ব্যাপক রফতানিমুখিতা আমাদের দেশকে অনেক এগিয়ে দিতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আমরা আশা করি, বাংলাদেশের এ উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যাব এবং অন্যান্য দেশের কাছে বাংলাদেশ হবে উন্নয়নের মডেল। উন্নয়শীল দেশ হিসেবে সম্পূর্ণ স্বীকৃতির আগেই উন্নত দেশের তালিকায়ও আমরা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কাজ করব এবং দেশ হবে সুন্দরÑএটাই কামনা সবার। বাংলাদেশকে অভিন্দন, অভিনন্দন সেই সব মানুষকে যারা ঘাম ঝরিয়ে আমাদের এনে দিচ্ছে অর্থনৈতিক মুক্তির আনন্দ।

লেখক : সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি

ও রসায়নবিদ

ধংপযড়ফিযঁৎু৮৮@মসধরষ.পড়স

"